মালদ্বীপের দিঘুরা আইল্যান্ডে বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) রাতে সেহরির রান্নার সময় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পাঁচজন বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও দুইজন গুরুতর আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার খবর শুক্রবার (১৩ মার্চ) বাংলাদেশ হাইকমিশন মালদ্বীপ নিশ্চিত করেছে।
হাইকমিশন জানিয়েছে, তারা ঘটনার প্রাথমিক পরিস্থিতি সার্বক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং নিহতদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। আহত দুজনকে বর্তমানে মালয়ের আইজিএম হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। শ্রম কাউন্সিলর সোহেল পারভেজ জানিয়েছেন, আহতদের মধ্যে একজন আইসিইউতে এবং অপরজনকে ইমার্জেন্সি বিভাগে রাখা হয়েছে।
নিহত ও আহতদের বিস্তারিত তালিকা
| নাম | অবস্থা | মন্তব্য |
|---|---|---|
| তাজ উদ্দিন ইসলাম | নিহত | দগ্ধ অবস্থায় মারা গেছেন |
| সদর আলী | নিহত | দগ্ধ অবস্থায় মারা গেছেন |
| রবিন মোল্লা | নিহত | দগ্ধ অবস্থায় মারা গেছেন |
| সফিকুল ইসলাম | নিহত | দগ্ধ অবস্থায় মারা গেছেন |
| নূরনবী সরকার | নিহত | দগ্ধ অবস্থায় মারা গেছেন |
| জামাল উদ্দিন | গুরুতর আহত | আইসিইউতে চিকিৎসাধীন |
| সাদ্দাম হোসেন | গুরুতর আহত | ইমার্জেন্সি বিভাগে চিকিৎসাধীন |
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, দিঘুরা আইল্যান্ডের একটি বাংলাদেশি কোয়ার্টারে গ্যাসের আগুনে সাতজন দগ্ধ হন। স্থানীয়রা তাদের দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠালে পাঁচজনের মৃত্যু হয়। আহত দুইজনকে মালেতে স্থানান্তর করা হয়েছে। অন্য ৩৮ জন প্রবাসী নিরাপদে ছিলেন, তারা ঘটনাস্থলের অন্য কক্ষে ঘুমিয়ে ছিলেন।
হাইকমিশন জানিয়েছে, এই ধরনের দুর্ঘটনা প্রবাসী শ্রমিকদের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা যাচ্ছে। মালদ্বীপে প্রবাসীরা সাধারণত একই কোয়ার্টারে থাকেন, ফলে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। হাইকমিশন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে আহতদের চিকিৎসা এবং নিহতদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে।
মালদ্বীপে প্রবাসী বাংলাদেশিরা এবার নতুন করে উপলব্ধি করছেন খাদ্য প্রণালী ও নিরাপত্তা মানদণ্ড মেনে চলার গুরুত্ব। হাইকমিশন আশা করছে, এই দুর্ঘটনা প্রবাসীদের জন্য নিরাপদ কাজের পরিবেশ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সঠিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং জরুরি প্রতিকার ব্যবস্থা ছাড়া এমন ছোট দুর্ঘটনাও বড় বিপর্যয়ে রূপ নিতে পারে। প্রবাসী শ্রমিকদের সচেতনতা, সঠিক রান্নার যন্ত্রপাতি ব্যবহার এবং আগুন প্রতিরোধক ব্যবস্থা বজায় রাখা এখন আগের চেয়ে আরও জরুরি হয়ে উঠেছে।
এই অগ্নিকাণ্ড প্রমাণ করে যে, প্রবাসীদের সুরক্ষা ও জীবন রক্ষার জন্য প্রাথমিক প্রস্তুতি অপরিহার্য। হাইকমিশন প্রবাসীদের পুনর্বাসন এবং নিরাপদ জীবনযাত্রার নিশ্চয়তার জন্য দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।
