যুক্তরাষ্ট্রের সর্বাধুনিক বিমানবাহী রণতরী জেরাল্ড আর ফোর্ড-এ গত সপ্তাহে লন্ড্রি বিভাগের একটি অংশে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে, যা প্রায় ৩০ ঘণ্টা ধরে জ্বলেছে। এতে রণতরীর বেশ কয়েকজন নাবিক ধোঁয়ার কারণে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় বড় ধরনের অসুবিধা তৈরি হয়েছে।
নিউইয়র্ক টাইমস-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রণতরীর কয়েকজন নাবিক ও কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, আগুনের সূত্রপাত লন্ড্রি বিভাগের যন্ত্রাংশ থেকে। মার্কিন নৌবাহিনী জানিয়েছে, এটি কোনো যুদ্ধকালীন হামলার ফল নয় এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। যদিও দুই নাবিক সামান্য আহত হয়েছেন, কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে চলা ধোঁয়ার কারণে নাবিকদের স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রায় ৪,৫০০ জন ক্রু ও বিমানসেনা ‘চরম অস্বস্তিকর’ অবস্থায় রয়েছেন। নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, অগ্নিকাণ্ডের ফলে অন্তত ৬০০ নাবিক তাঁদের থাকার জায়গা হারিয়েছেন এবং টেবিল বা মেঝেতে ঘুমাচ্ছেন। এছাড়া, লন্ড্রি পুড়ে যাওয়ায় অধিকাংশ নাবিক কাপড় ধোতে পারছেন না।
রননবাহিনী জানিয়েছে, ১৩ বিলিয়ন ডলার মূল্যের এই রণতরীর সামরিক কার্যক্রমে অগ্নিকাণ্ডের কোনো উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়েনি। তবে টয়লেট মেরামতের দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা ও নাবিকদের দৈনন্দিন অস্বস্তি ক্রুর মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এনপিআরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পূর্বেও রণতরীর টয়লেট মেরামতে বাইরে থেকে সাহায্য নিতে হয়েছে।
২০১৯ সালের জুনে ভার্জিনিয়ার নরফোক বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করা রণতরী আটলান্টিক, ভূমধ্যসাগর ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের পর বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থান করছে। যদি এই মোতায়েন এপ্রিলের মাঝামাঝি পর্যন্ত চলে, তবে এটি ভিয়েতনাম যুদ্ধের পর মার্কিন রণতরীর দীর্ঘতম মোতায়েন হিসেবে রেকর্ড হবে।
নিচের টেবিলে রণতরীর প্রধান তথ্য ও অগ্নিকাণ্ডের প্রভাব সংক্ষেপে দেওয়া হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| রণতরীর নাম | জেরাল্ড আর ফোর্ড |
| ওজন | ১ লাখ টন |
| ক্রু সংখ্যা | প্রায় ৪,৫০০ |
| মূল্য | ১৩ বিলিয়ন ডলার |
| অগ্নিকাণ্ড স্থল | লন্ড্রি বিভাগ |
| অগ্নিকাণ্ড সময়কাল | ৩০+ ঘণ্টা |
| আহত নাবিক | ২ জন সামান্য আহত |
| থাকার অসুবিধা | ৬০০+ নাবিক টেবিল বা মেঝেতে |
| মোতায়েন এলাকা | আটলান্টিক, ভূমধ্যসাগর, ক্যারিবীয়, মধ্যপ্রাচ্য |
| মোতায়েনকাল | ১০ মাস, চলমান |
| দৈনন্দিন সমস্যা | লন্ড্রি, টয়লেট, বসবাসের অসুবিধা |
সিএনএন জানিয়েছে, মার্কিন পঞ্চম নৌবহর বিষয়টি নজরদারি করছে এবং ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা প্রতিরোধের জন্য ব্যবস্থা নিচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দীর্ঘকালীন মোতায়েনের ফলে নাবিকদের জীবনযাত্রার মান, নিরাপত্তা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে প্রতিক্রিয়ার গুরুত্ব আরও স্পষ্ট হয়েছে।
এই ঘটনায় শুধু আর্থিক ক্ষতি নয়, মানবিক ও নাবিকদের দৈনন্দিন জীবনের ওপর প্রভাবকেও বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। নৌবাহিনী এই ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতি ও প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ গ্রহণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
সূত্র: সিএনএন
