মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট মঙ্গলবার মেক্সিকোর দায়ের করা ১০ বিলিয়ন ডলারের মামলার শুনানি করবে। এই মামলায় মার্কিন বন্দুক প্রস্তুতকারকদের বিরুদ্ধে মাদক পাচার ও সহিংসতা উসকে দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২১ সাল থেকে মামলাটি মার্কিন আদালতে বিচারাধীন। এতে স্মিথ অ্যান্ড ওয়েসনসহ অন্যান্য বন্দুক প্রস্তুতকারী ও পরিবেশক প্রতিষ্ঠানকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
Table of Contents
মার্কিন বন্দুক প্রস্তুতকারকদের বিরুদ্ধে মেক্সিকোর মামলার শুনানি সুপ্রিম কোর্টে
বিচারিক প্রক্রিয়া ও আইনি লড়াই
২০২২ সালে এক ফেডারেল বিচারক মামলাটি খারিজ করে দেন। তিনি জানান, মেক্সিকোর দাবিগুলো প্রোটেকশন অব লফুল কমার্স ইন আর্মস অ্যাক্ট (PLCAA) অতিক্রম করতে ব্যর্থ হয়েছে। ২০০৫ সালে কংগ্রেস পাসকৃত এই আইন অনুযায়ী, আগ্নেয়াস্ত্র প্রস্তুতকারকরা তাদের পণ্যের অপব্যবহারের জন্য অপরাধীদের দায় থেকে রক্ষা পায়।
তবে আপিল আদালত এই মামলাটি পুনরুজ্জীবিত করে এবং ব্যতিক্রমী কিছু আইনি দিক তুলে ধরে। এরপর স্মিথ অ্যান্ড ওয়েসন এবং ইন্টারস্টেট আর্মস মামলাটি খারিজের জন্য সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়।
মেক্সিকোর অভিযোগ ও দাবিসমূহ
মেক্সিকো সরকারের অভিযোগ, মার্কিন বন্দুক প্রস্তুতকারকরা ‘অবহেলাপূর্ণ ও অবৈধ’ বাণিজ্যের মাধ্যমে মাদক কার্টেলের সহিংসতাকে উসকে দিচ্ছে। তারা দাবি করেছে, মেক্সিকোতে উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের ৭০-৯০ শতাংশই যুক্তরাষ্ট্র থেকে পাচার করা হয়, যা প্রতি বছর প্রায় ২ লাখ থেকে ৭.৫ লাখ বন্দুকের সমান।
মেক্সিকোর আইনজীবীরা বলেন, “আমরা শুধু মেক্সিকোতে অবৈধ অস্ত্র প্রবাহ বন্ধ করতে চাই।”
প্রতিরোধ ও প্রতিক্রিয়া
স্মিথ অ্যান্ড ওয়েসনসহ অভিযুক্ত কোম্পানিগুলো দাবি করেছে, তারা নিয়মতান্ত্রিকভাবে বাজারে বৈধ পণ্য সরবরাহ করে এবং তাদের পণ্যের অপব্যবহারের জন্য দায়ী করা যায় না। তাদের যুক্তি, “যারা অস্ত্রের অপব্যবহার করে, অপরাধের দায় তাদেরই বহন করতে হবে।”
মেক্সিকোতে সহিংসতার প্রভাব
মেক্সিকোতে আগ্নেয়াস্ত্রের বিক্রি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত, ফলে আইনত বন্দুক কেনা প্রায় অসম্ভব। তবে মাদক সংক্রান্ত সহিংসতা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুসারে, ২০০৬ সালে পাচারবিরোধী অভিযান শুরুর পর থেকে প্রায় ৪.৮ লাখ মানুষ সহিংসতার শিকার হয়েছেন।
মাদক পাচার রোধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপের মুখে মেক্সিকো এই মামলা করেছে। তবে মেক্সিকো স্পষ্ট করেছে যে, এই আইনি লড়াই “মার্কিন নাগরিকদের অস্ত্র রাখার অধিকার নিয়ে কোনো বিতর্কের মঞ্চ নয়”।
এই মামলার রায় মাদক কার্টেল সহিংসতা ও আন্তর্জাতিক অস্ত্র পাচার মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
