মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিলে বেলারুশে বিরোধী নেতাদের মুক্তি

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা আংশিকভাবে প্রত্যাহারের পর বেলারুশে বড় পরিসরে রাজনৈতিক বন্দী মুক্তির ঘটনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মানবাধিকার সংগঠন ভিয়াসনার তথ্যমতে, দীর্ঘদিন কারাবন্দী থাকা বেলারুশের প্রধান বিরোধী নেতা ভিক্টর বাবারিকো অবশেষে মুক্তি পেয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত বার্তায় সংগঠনটি জানিয়েছে, “ভিক্টর বাবারিকো মুক্ত।” এই ঘোষণাকে বেলারুশের বিরোধী রাজনীতির জন্য একটি তাৎপর্যপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এই মুক্তির আগে জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া একটি সমঝোতার আওতায় আরও কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বন্দী মুক্তি পেয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ২০২০ সালের সরকারবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম মুখ মারিয়া কোলেসনিকোভা এবং মানবাধিকার সংগঠন ভিয়াসনার প্রতিষ্ঠাতা, নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী আলেস বিয়ালিয়াতস্কি। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র বেলারুশের ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে সম্মত হওয়ার পরপরই দেশটি মোট ১২৩ জন রাজনৈতিক বন্দীকে মুক্তি দেয়

ভিক্টর বাবারিকো ২০২০ সালের বিতর্কিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার লুকাশেঙ্কোর প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচিত ছিলেন। নির্বাচনের আগে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়, আর ওই নির্বাচনকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ও স্বাধীন পর্যবেক্ষকেরা ব্যাপক কারচুপির অভিযোগে প্রত্যাখ্যান করে। এর জেরে বেলারুশজুড়ে নজিরবিহীন গণবিক্ষোভ শুরু হয়, যা কঠোর দমননীতির মাধ্যমে দমন করা হয়। সেই সময় থেকে বহু বিরোধী নেতা ও আন্দোলনকর্মী কারাগারে বন্দী ছিলেন।

সম্প্রতি মিনস্কে বেলারুশ–বিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত জন কোয়ালের সঙ্গে আলোচনার পর এই মুক্তির প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয়। যুক্তরাষ্ট্র বিশেষভাবে পটাশ রপ্তানির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে সম্মত হয়েছে। পটাশ সারের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান এবং বেলারুশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান রপ্তানিপণ্য। বিশ্লেষকেরা বলছেন, এই নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা বেলারুশ সরকারের জন্য বড় অর্থনৈতিক স্বস্তি।

বেলারুশের প্রেসিডেন্ট লুকাশেঙ্কো দীর্ঘদিন ধরেই রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এখনো তাঁকে বৈধ প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই সাম্প্রতিক কূটনৈতিক পদক্ষেপকে অনেকেই পূর্ব ইউরোপের রাজনীতিতে একটি নতুন সমীকরণের সূচনা হিসেবে দেখছেন।

মুক্তি পাওয়া বন্দীদের একটি অংশ শিগগিরই প্রতিবেশী দেশ লিথুয়ানিয়ার রাজধানী ভিলনিয়াসে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। মারিয়া কোলেসনিকোভার বোন তাতিয়ানা তাঁর মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, এই মুক্তি স্বস্তির হলেও বেলারুশে এখনো বহু রাজনৈতিক বন্দী কারাগারে রয়েছেন। ফলে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের পাশাপাশি মানবাধিকার পরিস্থিতির স্থায়ী উন্নয়নই হবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রধান প্রত্যাশা।