ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) বুধবার (১১ মার্চ) ঘোষণা করেছে যে কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত একাধিক মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে তারা ব্যাপক হামলা চালিয়েছে। এই হামলা আমেরিকা ও ইসরাইলের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার অংশ হিসেবে করা হয়েছে, যার মাধ্যমে মার্কিন সামরিক উপস্থিতিকে লক্ষ্য করা হয়েছে।
আইআরজিসি-এর নিজস্ব ওয়েবসাইট ‘সেপাহ নিউজ’-এ প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাহরাইনের মিনা সালমান বন্দরে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের প্রধান স্নায়ু কেন্দ্র ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। মিনা সালমান বন্দরটি এই অঞ্চলে মার্কিন নৌ-তৎপরতার অন্যতম প্রধান ঘাঁটি হিসেবে বিবেচিত।
একই সঙ্গে কুয়েতেও সমন্বিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। আইআরজিসি জানিয়েছে, কুয়েতের বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটিতে—ক্যাম্প প্যাট্রিয়ট, মোহাম্মদ আল-আহমাদ, আলি আল-সালেম এবং ক্যাম্প বুয়েরিং—সৈন্যদের আবাসন, সামরিক সরঞ্জাম রাখার হ্যাঙ্গার এবং সমাবেশকেন্দ্রগুলো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হামলার লক্ষ্য মূলত মার্কিন সেনাদের আবাসন এবং সামরিক সরঞ্জাম ছিল, যা তেহরান সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, এই হামলা মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-আমেরিকা উত্তেজনার নতুন ধারা তৈরি করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এসব হামলার মাধ্যমে ইরান শুধু সামরিক বাহিনীকে নয়, কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করার ক্ষমতাও প্রদর্শন করছে।
নিচের টেবিলে কুয়েত ও বাহরাইনের মার্কিন ঘাঁটিগুলো এবং হামলার সম্ভাব্য ক্ষতি সংক্ষেপে দেখানো হলো:
| স্থান | মার্কিন ঘাঁটির নাম | লক্ষ্য/ক্ষতি | হামলার ধরন |
|---|---|---|---|
| বাহরাইন | মিনা সালমান বন্দর | নৌবহরের স্নায়ু কেন্দ্র ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো | ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন |
| কুয়েত | ক্যাম্প প্যাট্রিয়ট | আবাসন ও সরঞ্জাম হ্যাঙ্গার | সমন্বিত হামলা |
| কুয়েত | মোহাম্মদ আল-আহমাদ | সৈন্যদের আবাসন এবং জমায়েত কেন্দ্র | ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন |
| কুয়েত | আলি আল-সালেম | সামরিক সরঞ্জাম এবং হ্যাঙ্গার | সমন্বিত হামলা |
| কুয়েত | ক্যাম্প বুয়েরিং | সৈন্য ও সরঞ্জামের লক্ষ্য | ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র |
আইআরজিসি-এর বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, হামলার মাধ্যমে মার্কিন সেনাদের বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং এই ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক কার্যক্রমে তীব্র প্রভাব পড়তে পারে। মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ এবং কুয়েত-বাহরাইনের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এখনও এই হামলার সত্যতা এবং ক্ষতির পরিমাণ যাচাই করছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সামরিক ও কূটনৈতিক পর্যায়ে উত্তেজনার এই নতুন ধারা আগামী দিনে মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল করতে পারে।
