মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার মধ্যে পাঁচম দিন ক্রমবর্ধমান সংঘর্ষের মধ্যে ইরান রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে ঘোষণা করেছে যে তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের লক্ষ্যবস্তুতে চল্লিশটিরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এই হামলাকে “সতর্ক প্রতিশ্রুতি-৪” নামে পরিচিত করা হয়েছে এবং এটি বর্তমান সংঘর্ষের শুরু থেকে সবচেয়ে ব্যাপক সমন্বিত ক্ষেপণাস্ত্র অভিযান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ইরানের তথ্য অনুযায়ী, এই অভিযানটি ইসলামী বিপ্লবী প্রহরী বাহিনীর মহাকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র বিভাগের উদ্যোগে পরিচালিত হয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো কয়েক ঘণ্টার মধ্যে বিভিন্ন সময় অন্তর নিক্ষেপ করা হয়েছে, যা চলমান অভিযানের সতেরোতম পর্যায় হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। তেহরান জানিয়েছে যে লক্ষ্যবস্তু ছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক স্থাপনা, যদিও ক্ষতি বা নিহতের সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি।
ইরানি কর্মকর্তারা এই অভিযানকে জাতীয় সার্বভৌমত্ব এবং নিরাপত্তা রক্ষার ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। সামরিক বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য অনুযায়ী, এই হামলায় ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্রগুলি দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি, দীর্ঘ-পরিসরের এবং উচ্চ-নির্ভুলতার লক্ষ্যভেদের সক্ষম। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরান সংক্ষিপ্ত ও মধ্য-পরিসরের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও মানববিহীন বিমান প্রযুক্তিতে ব্যাপক বিনিয়োগ করেছে। এই উন্নয়নগুলো আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিসরকে প্রভাবিত করেছে এবং প্রতিবেশী রাষ্ট্র ও পশ্চিমা শক্তিগুলোর উদ্বেগ বৃদ্ধি করেছে।
প্রধান তথ্যের সারসংক্ষেপ
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
|---|---|
| সংঘর্ষের দিন | পঞ্চম দিন |
| ক্ষেপণাস্ত্র সংখ্যা | চল্লিশটিরও বেশি |
| অভিযানের নাম | সতর্ক প্রতিশ্রুতি-৪ |
| অভিযান পর্যায় | সতেরোতম |
| ঘোষণা করা লক্ষ্য | যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক স্থাপনা |
| ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ | সরকারিভাবে প্রকাশ করা হয়নি |
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরাকি, সিরিয়া এবং লাল সাগর উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত ঘাঁটিতে সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে। আঞ্চলিক সূত্রের খবর অনুযায়ী, ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতের সময় বায়ু প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছিল। তবে বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ওয়াশিংটন ও তেল আবিব কোনও বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেনি।
সামরিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, চলমান ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক স্থিতিশীলতাকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও সামুদ্রিক বাণিজ্য পথেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে লাল সাগর ও পারস্য উপসাগরের নৌপরিবহন বন্ধ হয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রভাব পড়তে পারে।
তেহরান আরও সতর্ক করেছে যে, তার ভূখণ্ড বা স্বার্থের বিরুদ্ধে যে কোনও নতুন হামলা আরও শক্তিশালী প্রতিক্রিয়ার মুখোমুখি হবে। কোনো দ্রুত পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার লক্ষণ না থাকায়, পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন যে তীব্র কূটনৈতিক উদ্যোগ ছাড়া সংঘাত আরও বিস্তৃত হতে পারে, যা ইতিমধ্যেই অস্থির অঞ্চলে আরও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে।
