এডিসি হারুনের মারধরের শিকার হয়েছেন অনেকে! একের পর পর এক বিতর্কিত কর্মকাণ্ড আইনকে তোয়াক্কা না করে বিভিন্ন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্ম দেয় সাবেক রমনা জোনের এডিসি হারুন। ইতোমধ্যে এসব ঘটনার তদন্তে নেমেছে পুলিশের একটি বিশেষ বাহিনী। অধিকাংশ ঘটনার সত্যতা ও পেয়েছেন তারা। এ ব্যপারে জয়েণ্ট কমিশনার ডিবি হারুন অর রশিদ বলেছেন, তদন্তে প্রমান মিললে তাকে অবশ্যই শাস্তি পেতে হবে। আমরা বিভিন্ন দিক নিয়ে তদন্ত করছি।
জানা গেছে, এডিসি হারুনের দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকার মধ্যে ছিল শাহবাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মেডিকেল কলেজসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এ ছাড়াও রয়েছে হাইকোর্ট ও জাতীয় প্রেস ক্লাব। প্রেস ক্লাব ও শাহবাগ মোড়ে প্রায়ই বিভিন্ন সংগঠনের ব্যানারে আন্দোলন, প্রতিবাদ, বিক্ষোভ, দাবি আদায়, সড়ক অবরোধ, মানববন্ধনের মতো কর্মসূচি পালিত হয়। অনেক কর্মসূচিতে তিনি আন্দোলনকারীদের পিটিয়ে খবরের শিরোনাম হয়েছেন। আন্দোলন-কর্মসূচিতে তিনি বরাবরই উগ্র আচরণ করেন। আন্দোলন-বিক্ষোভকারীদের ওপর অমানবিকভাবে লাঠিপেটা করেন। এসব দৃশ্য ধারণ করতে গিয়ে অনেক সাংবাদিক তার মারধরের শিকার হয়েছেন। আর লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনা অহরহ। তার লাঞ্ছনার শিকার হওয়া থেকে বাদ যায়নি খোদ পুলিশ সদস্যরাও। অমানবিকভাবে মানুষ পেটানোর ঘটনায় দেশজুড়ে অনেক আলোচনার জন্ম দিলেও কখনো তিনি শাস্তির মুখে পড়েননি।
এডিসি হারুনের মারধরের শিকার হয়েছেন অনেকে!
এর আগে গত বছরের ৪ঠা মার্চ গণঅধিকার পরিষদের সদস্য সচিব নুরুল হক নুরের নেতৃত্বে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ মিছিলে ঢাকা ক্লাবের সামনে এডিসি হারুনের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ও সাদা পোশাকের লোক বিক্ষোভকারীদের ওপর অতর্কিত লাঠিচার্জ করে। ওইদিন হারুন নিজেই বিক্ষোভকারীদের পেটাতে পেটাতে গলা টিপে ধরেন। পুলিশের ওই হামলায় গণঅধিকার পরিষদের অনেকেই আহত হয়েছিলেন।
গত বছরের ১৮ই এপ্রিল রাতে নিউ মার্কেট এলাকায় দোকান মালিক, বিক্রেতা ও ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের সময় শিক্ষার্থীদের দিকে রাবারের বুলেট ছুড়তে এক কনস্টেবলকে নির্দেশ দেন তিনি। এ সময় ওই কনস্টেবল জানান বুলেট শেষ হয়ে গেছে। এ কথা শোনার পর পরই হারুন ওই কনস্টেবলকে থাপ্পড় মারেন। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে ব্যাপকভাবে সমালোচিত হন হারুন।

গত বছরের ৭ই আগস্ট জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে শাহবাগে একটি সমাবেশ করেছিল বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা। সেদিনের শান্তিপূর্ণ ওই কর্মসূচিতে এডিসি হারুনের নেতৃত্বে লাঠিপেটা করে পুলিশ। এতে আহত হন শিক্ষার্থী মো. সুলাইমান মিয়া, বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রীর ঢাবি সংগঠক সামি আবদুল্লাহ, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের স্কুল বিষয়ক সম্পাদক ফেরদৌস বাঁধন, ছাত্র ইউনিয়নের বৃহত্তর লালবাগ থানা আহ্বায়ক শান্তা ইসলামসহ ১২ জন। এ ঘটনায় সামি আবদুল্লাহ মারাত্মকভাবে আহত হন। তার মাথায় ১৪টি সেলাই লেগেছিল। আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও আহতরা ওই সময় অভিযোগ করে বলেছিলেন, তারা শান্তিপূর্ণ এবং গণতান্ত্রিক কর্মসূচি পালন করছিল। কিন্তু এডিসি হারুন সে সময় অতর্কিতভাবে লাঠিপেটা করেন।
গত বছরের ৯ই সেপ্টেম্বর সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫ করার দাবিতে শাহবাগ মোড়ে সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন করেন একদল চাকরিপ্রার্থী। পরে আন্দোলনকারীদের লাঠিপেটা করে পুলিশ। এতে আহত হন অন্তত ১০ জন। আহত শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা সেদিন গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, একদল শিক্ষার্থী শাহবাগ মোড়ের চতুর্দিকের রাস্তা অবরোধ করে আন্দোলন করছিল। এ সময় তারা সরকারকে নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী চাকরির বয়স বাড়ানোর দাবি জানায়। পরে এডিসি হারুনের নেতৃত্বে শুরু হয় লাঠিচার্জ। প্রায় আধাঘণ্টা লাঠিচার্জ করে তাদেরকে ছত্রভঙ্গ করা হয়। এ সময় ছবি তুলতে গেলে ফটো সাংবাদিকদের সঙ্গে হারুন দুর্ব্যবহার করেন। তিনি তাদেরকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেন।

২০২১ সালের ২৬শে ফেব্রুয়ারি লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যুতে বিচার চেয়ে শাহবাগে প্রগতিশীল ছাত্রজোট ও অন্যান্য বাম সংগঠন আয়োজিত মশাল মিছিলে লাঠিপেটা করে পুলিশ। সেদিন বিক্ষোভকারীরা মিছিল নিয়ে টিএসসি থেকে শাহবাগে যাচ্ছিলেন, এমন সময় এডিসি হারুনের নেতৃত্বে একদল পুলিশ বিক্ষোভকারীদের মারধর করে আহত করেন। একই বছরের ১৫ই মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় বিভাগ পরিবর্তন ইউনিট বহাল, গুচ্ছ সিলেকশন বাতিল এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় পূর্বের জিপিএ বহাল রাখার দাবিতে ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচিতে সচিবালয়ের সামনে শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিপেটার নির্দেশ দেন এডিসি হারুন। তিনি নিজেও শিক্ষার্থীদের লাঠি দিয়ে পেটান।