ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার সোহাগী ইউনিয়নে পারিবারিক বিরোধের জেরে ছুরিকাঘাতে আবুল কালাম (৬০) নামে একজন নিহত হয়েছেন। ঘটনার মূল কারণ হিসেবে প্রাথমিকভাবে জমি সংক্রান্ত পূর্ববিরোধ ধরা পড়েছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) রাত সাড়ে ৯টার দিকে মমরোজপুর গ্রামের মৃত শফির উদ্দিনের ছেলে আবুল কালাম সোহাগী বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে একই গ্রামের আবুল কাশেমের সঙ্গে কালপার এলাকায় দেখা হয়। দেখা হলে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। তর্কের এক পর্যায়ে কাশেম ছুরি দিয়ে কালামের বুকে আঘাত করেন।
স্থানীয়রা কালামের চিৎকার শুনে ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে ছুরিকাঘাতপ্রাপ্ত অবস্থায় উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, আবুল কালাম এবং আবুল কাশেম মামাতো ও ফুফাতো ভাই হলেও তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল। এ ধরনের পারিবারিক ঝগড়ার কারণে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
ঈশ্বরগঞ্জ থানার ওসি রবিউল আজম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে এবং অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
নিচের টেবিলে নিহত ও অভিযুক্তের সম্পর্ক ও ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ তুলে ধরা হলো:
| নাম | বয়স | সম্পর্ক | ঘটনা সংক্ষিপ্ত বিবরণ |
|---|---|---|---|
| আবুল কালাম | ৬০ | ফুফাতো ভাই | ছুরিকাঘাতপ্রাপ্ত হয়ে মৃত্যুবরণ |
| আবুল কাশেম | অজানা | মামাতো ভাই | পূর্ববিরোধের জেরে ছুরিকাঘাতকারী |
| স্থান | – | – | সোহাগী ইউনিয়ন, মমরোজপুর গ্রাম |
| সময় | – | – | ২৪ মার্চ, রাত সাড়ে ৯টা |
| কারণ | – | – | জমি সংক্রান্ত পারিবারিক বিরোধ |
স্থানীয়রা বলছেন, পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মনোমালিন্য ছিল। এই ধরনের দমনাত্মক ঘটনা এড়াতে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশকে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে।
ঈশ্বরগঞ্জ থানা সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং হত্যাকারীর বিরুদ্ধে দ্রুত মামলা দায়ের ও গ্রেফতারের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় জনগণও আশা করছেন যে এই ধরনের ঝগড়া ও হিংসার ঘটনা ভবিষ্যতে পুনরায় ঘটবে না।
মোট কথায়, পরিবারিক বিরোধই এই হত্যাকাণ্ডের মূল প্রেক্ষাপট, যা স্থানীয় সমাজে আতঙ্ক ও শোকের ছায়া ফেলেছে।
