জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সাহেদ আলীসহ ১০ জনকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ‘আহতদের হদিস না পাওয়া’ এবং ‘তথ্যগত অসঙ্গতি’ উল্লেখ করে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১১৩ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এই মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন গত ৫ নভেম্বর আদালতে দাখিল করা হয়। মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ৩ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত হয়েছে বলে প্রসিকিউশন বিভাগের সহকারী তদন্ত কর্মকর্তা আবুল বাশার জানিয়েছেন।
মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক মন্ত্রী হাছান মাহমুদ, মোহাম্মদ এ আরাফাত, জুনাইদ আহমেদ পলক, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আওয়ামী লীগ নেতা মাহবুব উল আলম হানিফ, শামীম ওসমান, ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানসহ মোট ১১৩ জন।
মামলাটি ধানমন্ডি থানায় ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর দায়ের করা হয়। এজাহারে বলা হয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ৪ আগস্ট সীমান্ত স্কয়ার থেকে কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে ধানমন্ডি ২৭-এর মীনা বাজারের সামনে সাহেদ আলী আহত হন। ওই ঘটনায় ঢাকা কলেজ ও সিটি কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থীসহ মোট নয়জন আহত হন বলে উল্লেখ করা হয়।
পিবিআই তদন্ত কর্মকর্তা শাহজাহান ভূঞাঁ জানান, “জুলাই আন্দোলনে আহতদের সরকারি গেজেটে প্রকাশিত নাম পাওয়া যায়নি। তথ্যগত অসঙ্গতির কারণে প্রাথমিকভাবে আসামিদের অব্যাহারের সুপারিশ করা হয়েছে। তবে আহতদের সঠিক তথ্য পাওয়া গেলে মামলা পুনরায় খোলা হতে পারে।”
তদন্তে দেখা গেছে, বাদী শরীফ এজাহারে দাবি করেছেন, তার ভাই ছাড়াও কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। কিন্তু তাদের পূর্ণাঙ্গ নাম, ঠিকানা বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তথ্য না থাকায় তাদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। আশপাশের হাসপাতালগুলোতেও খোঁজ নেওয়া হলেও চিকিৎসা সংক্রান্ত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
আহতদের তালিকা (যাদের সন্ধান পাওয়া যায়নি):
| ক্রমিক | নাম | শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান | চিকিৎসা তথ্য |
|---|---|---|---|
| ১ | সাহেদ আলী | ঢাকা কলেজ | নেই |
| ২ | রাশেদ | সিটি কলেজ | নেই |
| ৩ | জুয়েল | ঢাকা কলেজ | নেই |
| ৪ | মাহমুদ | সিটি কলেজ | নেই |
| ৫ | নাহিদ | অজানা | নেই |
| ৬ | রাসেল | অজানা | নেই |
| ৭ | মিরাজ | অজানা | নেই |
| ৮ | জান্নাতুল ফেরদৌস নাঈমা | অজানা | নেই |
| ৯ | আইশ আক্তার | অজানা | নেই |
| ১০ | সাম্মি আক্তার | অজানা | নেই |
তদন্তে দেখা গেছে, বাদীকে ধানমন্ডি থানায় হাজির করার নোটিশ পাঠানো হলেও তিনি উপস্থিত হননি। পাশাপাশি তাঁর মোবাইল ও হোয়াটসঅ্যাপের যোগাযোগও স্থিতিশীল নয়। পরে তিনি ধানমন্ডি লেকের পাশে তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন, কিন্তু আহতদের তথ্য ও চিকিৎসা কাগজপত্র সরবরাহ করতে ব্যর্থ হন।
মামলায় থানা পুলিশ প্রাথমিকভাবে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছিল। তারা হলেন—শাকিল হোসেন ইমরান, কামরুল হাসান ওরফে কামু, মারুফ হোসেন এবং মাসুদ রানা বেপারী। কামরুল হাসান বা ‘কামু’-র আইনজীবী পীযূষ কান্তি জানিয়েছেন, তার মক্কেল হয়রানির শিকার হয়েছেন এবং আদালতকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।
পিবিআই-এর সুপারিশে, আহতদের তথ্য পাওয়া না যাওয়া পর্যন্ত শেখ হাসিনাসহ ১১৩ জনকে মামলা থেকে অব্যাহার করা হবে। তদন্ত কর্মকর্তা জানান, প্রয়োজনীয় তথ্য সংগৃহীত হলে মামলা পুনর্গঠন সম্ভব।
