নওগাঁর মান্দা উপজেলায় দুর্বৃত্তদের দেওয়া আগুনে একটি স-মিল সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বুধবার (৪ মার্চ) ভোররাত প্রায় ৪টার দিকে নওগাঁ-রাজশাহী মহাসড়কের দেলুয়াবাড়ি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ঘটনায় তিনজনকে অভিযুক্ত করে মান্দা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ওয়াজেদ আলী জানান, তিনি প্রায় ১৮ বছর আগে নিজ জমিতে স-মিল স্থাপন করে ব্যবসা শুরু করেছিলেন। “ঘটনার দিন রাতেও স-মিলে নৈশপ্রহরী দায়িত্বে ছিলেন। ভোরে সাহরি খাওয়ার জন্য বাইরে যাওয়ার সময় নৈশপ্রহরী আতাব আলী স-মিলে আগুন জ্বলতে দেখেন। স্থানীয়দের সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা গেলেও ততক্ষণে মেশিন, আসবাবপত্র এবং মজুদ কাঠসহ প্রায় চার লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে,” তিনি বলেন।
ওয়াজেদ আলীর অভিযোগ, জমিজমা সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধ এই অগ্নিসংযোগের পেছনের কারণ। তিনি দাবি করেন, দেলুয়াবাড়ি এলাকার আফসার আলী, আকতার হোসেন এবং চককানু গ্রামের গুলবর রহমানের সঙ্গে তার বিরোধ বহু বছর ধরে চলছিল। “প্রতিপক্ষরা নানা সময় আমাকে হুমকি দিয়ে আসছিল। পূর্ববিরোধের জের ধরে তারা এই আগুন দিয়েছে বলে আমার ধারণা,” তিনি বলেন।
মান্দা থানায় দায়ের করা অভিযোগের পর পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। মান্দা থানার ওসি কে এম মাসুদ রানা জানান, “লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর আমরা তদন্ত শুরু করেছি। প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হবে।”
অগ্নিকাণ্ডের ক্ষয়ক্ষতির সারসংক্ষেপ
| তারিখ | স্থান | ক্ষতির ধরন | আর্থিক মূল্য (বাংলা টাকা) |
|---|---|---|---|
| ৪ মার্চ ২০২৬ | দেলুয়াবাড়ি বাসস্ট্যান্ড, মান্দা | শ্যালো মেশিন, আসবাবপত্র ও কাঠের মজুদ পুড়ে গেছে | প্রায় ৪,০০,০০০ টাকা |
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, অগ্নিকাণ্ডের পর এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেক ব্যবসায়ী সতর্ক হয়ে উঠেছেন এবং পুলিশকে আরও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে। ওয়াজেদ আলীও দাবি করেছেন, দীর্ঘদিন ধরে চলা জমি বিরোধের মাধ্যেমেই প্রতিপক্ষ এমন হত্যাশেষী কৌশল অবলম্বন করেছে।
মান্দা থানা ও স্থানীয় প্রশাসন এলাকায় নজরদারি বাড়িয়ে দুর্বৃত্তদের সনাক্তকরণ ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে কাজ করছে। পুলিশের মতে, এ ধরনের ঘটনা রোধে স্থানীয় মানুষের সহযোগিতা ও তথ্য সরবরাহ অপরিহার্য।
