মানিকগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় স্বামী-স্ত্রী নিহত

মানিকগঞ্জের শিবালয়ে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের বরংগাইল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় একটি ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় স্বামী-স্ত্রী নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে সংঘটিত এই দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই পল্লী চিকিৎসক মোনায়েম খান (৫০) মারা যান, আর তার স্ত্রী জ্যোৎস্না আক্তার (৪৫) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যা হাসপাতালে মৃত্যু বরণ করেন।

বরংগাইল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুন অর রশিদ জানান, ঢাকার দক্ষিণখান থেকে মোটরসাইকেলযোগে ফরিদপুরের গ্রামের বাড়ি ফেরার পথে তারা দুর্ঘটনার শিকার হন। ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের বরংগাইল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাস পণ্যবাহী ট্রাককে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করার সময় মোটরসাইকেলটি চাপা পড়ে।

ওসি হারুন অর রশিদ আরও জানান, আহত স্ত্রীকে দ্রুত উদ্ধার করে মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পর ট্রাকটি আটক করা হয়েছে, আর বাসটি শনাক্তের চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, “নিহতদের মরদেহ হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে এবং তাদের স্বজনদের খবর দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার স্থানটি অত্যন্ত ব্যস্ত হওয়ায় সড়ক দুর্ঘটনার ঘটনা প্রায়ই ঘটে। বিশেষ করে বাস ও ট্রাকের গতির কারণে সাধারণ পথচারী ও মোটরসাইকেল চালকদের জন্য ঝুঁকি বেড়ে যায়।

নিম্নে দুর্ঘটনার প্রাথমিক তথ্য সারণি আকারে উপস্থাপন করা হলো:

বিষয়বিবরণ
দুর্ঘটনার স্থানবরংগাইল বাসস্ট্যান্ড, শিবালয়, মানিকগঞ্জ
দুর্ঘটনার সময়বৃহস্পতিবার দুপুর
নিহত ব্যক্তির নামমোনায়েম খান (৫০), জ্যোৎস্না আক্তার (৪৫)
পেশাপল্লী চিকিৎসক
গন্তব্যফরিদপুরের গ্রামের বাড়ি
দুর্ঘটনার কারণবাস ট্রাককে পাশ কাটানোর সময় মোটরসাইকেল চাপা পড়া
হাসপাতালে মৃত্যুজ্যোৎস্না আক্তার
আইনগত ব্যবস্থাট্রাক আটক, বাস শনাক্তের চেষ্টা চলছে

দুর্ঘটনা ও নিরাপত্তা বিষয়ক বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের মতো ব্যস্ত রুটে যানবাহনের গতিসীমা ও নিয়ন্ত্রণের প্রতি কঠোর মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন। তারা আরও বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে নিরাপদ ড্রাইভিং, ট্রাফিক আইন মেনে চলা এবং যানবাহনের নিয়মিত সার্ভিস অপরিহার্য।

এই দুর্ঘটনা স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া ফেলেছে। এলাকার মানুষ আশা করছেন, সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কড়াকড়ি করা হবে যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা প্রতিরোধ করা যায়।