মানিকগঞ্জে নদী থেকে গলা কাটা যুবকের মরদেহ উদ্ধার

মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার নবগ্রাম ইউনিয়নের পাছ বারইল বটতলা এলাকায় বুধবার বিকেল প্রায় ৪টার দিকে কালীগঙ্গা নদী থেকে এক যুবকের গলা কাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। স্থানীয় এক ব্যক্তি নদীতে হাত দিয়ে মাছ ধরতে গিয়ে মরদেহটি দেখতে পান এবং দ্রুত বিষয়টি মানিকগঞ্জ সদর থানা পুলিশকে জানান। পুলিশ অবিলম্বে ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মরদেহটির গলায় তীব্র আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। এছাড়া বুক থেকে পেট পর্যন্ত গভীরভাবে কেটে নড়িভুঁড়ি বের করা হয়েছিল। ঘটনাস্থলে মরদেহের মাথা পাওয়া যায়নি, যা হত্যার সঙ্গে সঙ্গে গুরুতর হত্যাকাণ্ডের ইঙ্গিত দেয়। পুলিশ জানায়, এটি একটি পরিকল্পিত ও নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ডের সম্ভাবনা রয়েছে।

খবর পেয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) মানিকগঞ্জের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের পরিচয় শনাক্ত ও প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে। তদন্তকারীরা ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহ করে এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে মৃত ব্যক্তির পরিচয় নির্ধারণের চেষ্টা করেন।

স্থানীয়রা জানায়, ঘিওর উপজেলার বানিয়াজুড়ি এলাকার বাসিন্দা রফিক নামের এক অটোরিকশা চালক দুই দিন ধরে নিখোঁজ ছিলেন। নদীতে মরদেহ উদ্ধারের খবর পেয়ে তার স্ত্রী ও বোন ঘটনাস্থলে এসে মরদেহটি রফিকের বলে শনাক্ত করেন। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, রফিকের সঙ্গে শেষবারের মতো যোগাযোগ হয়েছে দুই দিন আগে এবং সে হঠাৎ নিখোঁজ হয়।

পুলিশ পরে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ময়নাতদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর সঠিক কারণ ও সময় নির্ধারণ করা হবে।

মানিকগঞ্জ সদর থানা পুলিশ জানায়, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্তে প্রমাণ সংগ্রহ, ঘটনাস্থলের আলামত বিশ্লেষণ ও স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং হত্যাকারীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

নিচের টেবিলে ঘটনাস্থল ও মৃতকের পরিচয় সংক্রান্ত তথ্য সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:

তথ্য বিষয়বিবরণ
জেলামানিকগঞ্জ
উপজেলাসদর
ইউনিয়ননবগ্রাম
স্থানপাছ বারইল বটতলা, কালীগঙ্গা নদী
উদ্ধার সময়বুধবার বিকেল, প্রায় ৪টা
মৃত ব্যক্তির নামরফিক (ঘিওর, বানিয়াজুড়ি এলাকার বাসিন্দা)
মরদেহের অবস্থাগলা কাটা, বুক-পেট থেকে কাটা, মাথা অনুপস্থিত
তদন্তকারী সংস্থামানিকগঞ্জ সদর থানা ও পিবিআই

মোটকথা, এই ঘটনা এলাকায় শোক ও আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটনের জন্য দ্রুত কার্যক্রম চালাচ্ছে।