মাধবপুরে পিকআপ খাদে পড়ে নিহত চারজন

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় ঢাকা–সিলেট মহাসড়কে একটি পিকআপ ভ্যান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে নারী ও শিশুসহ চারজন নিহত হয়েছেন। রোববার সকাল আটটার দিকে উপজেলার আন্দিউড়া এলাকায় ঢাকামুখী লেনে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে, যা স্থানীয়দের মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার দিকে যাচ্ছিল পণ্যবোঝাই পিকআপটি হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের ডান পাশের খাদে পড়ে যায় এবং উল্টে যায়। দুর্ঘটনার পরপরই আশপাশের লোকজন ছুটে এসে উদ্ধারকাজে অংশ নেন এবং পুলিশকে খবর দেন। সকাল সাড়ে আটটার দিকে শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে রেকার দিয়ে পিকআপটি উদ্ধার করে।

গাড়িটি তোলার পর পিকআপের কেবিনের ভেতর থেকে এক নারী, একটি শিশুসহ মোট চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দুর্ঘটনার সময় তারা কেবিনেই আটকা পড়ে শ্বাসরোধ বা গুরুতর আঘাতে নিহত হন। তবে নিহতদের পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পিকআপটিতে বাসাবাড়ির বিভিন্ন মালামাল বহন করা হচ্ছিল বলে জানা গেছে, যা থেকে ধারণা করা হচ্ছে তারা হয়তো কোথাও স্থানান্তরের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন।

শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু তাহের দেওয়ান জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, “পিকআপটি কীভাবে নিয়ন্ত্রণ হারাল, সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নিহতদের পরিচয় শনাক্তে আমরা কাজ করছি।” মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য প্রেরণের প্রস্তুতি চলছে এবং এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

সড়ক দুর্ঘটনার এ ধরনের ঘটনা দিন দিন উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। অতিরিক্ত গতি, যানবাহনের যান্ত্রিক ত্রুটি, চালকের ক্লান্তি বা অসতর্কতা—এসব কারণই সাধারণত এমন দুর্ঘটনার পেছনে ভূমিকা রাখে। ঢাকা–সিলেট মহাসড়ক দেশের অন্যতম ব্যস্ত সড়ক হওয়ায় এখানে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও তুলনামূলক বেশি।

নিচে দুর্ঘটনার মূল তথ্য সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো—

বিষয়তথ্য
স্থানআন্দিউড়া, মাধবপুর, হবিগঞ্জ
সড়কঢাকা–সিলেট মহাসড়ক
সময়রোববার, সকাল ৮টা
যানবাহনপিকআপ ভ্যান
নিহত৪ জন (নারী ও শিশুসহ)
কারণতদন্তাধীন
উদ্ধারকারী সংস্থাশায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে থানা

এই দুর্ঘটনা আবারও সড়ক নিরাপত্তা জোরদারের প্রয়োজনীয়তার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছে। নিয়মিত যানবাহনের ফিটনেস পরীক্ষা, চালকদের পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখার মাধ্যমে এমন মর্মান্তিক ঘটনা অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।