মাদারীপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় তিনজন নিহত

মাদারীপুর জেলার মস্তফাপুর এলাকায় মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুরে একটি ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় তিনজন ভ্যানযাত্রী নিহত এবং দুইজন আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনাটি ঢাকা–বরিশাল মহাসড়কের তাঁতিবাড়ি এলাকায় ঘটে। স্থানীয় সময় প্রায় ১২টার দিকে এই প্রাণঘাতী ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সকাল সাড়ে ১১টার দিকে কয়েকজন যাত্রী ভাংগাব্রিজ এলাকা থেকে মস্তফাপুরের উদ্দেশ্যে একটি যাত্রীবাহী ভ্যানে উঠেন। ভ্যানটি ধীরে ধীরে তার গন্তব্যের দিকে এগোচ্ছিল। পথে তাঁতিবাড়ি এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগামী কাভার্ডভ্যান যাত্রীবাহী ভ্যানটিকে আঘাত করে। এতে ভ্যানের ছাদের উপর বসা তিনজন যাত্রী ঘটনাস্থলেই নিহত হন, আর দুইজন গুরুতর আহত হন।

মস্তফাপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, “কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় তিনজন নিহত হয়েছেন। তারা ভ্যানের ছাদের উপর বসেছিলেন। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক করতে কাজ করছে।”

নিহত ও আহতদের পরিচয় এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি। তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, নিহতদের মধ্যে একজন মধ্যবয়সী পুরুষ এবং দুইজন যুবক। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে ঢাকার একটি হাসপাতাল রেফার করা হয়েছে।

সড়ক দুর্ঘটনার প্রাথমিক তথ্যগুলো সংক্ষেপে নিচের টেবিলে দেওয়া হলো:

তারিখ ও সময়স্থাননিহতআহতযানবাহনপরিস্থিতি
১৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১২টাতাঁতিবাড়ি, মস্তফাপুর, মাদারীপুরযাত্রীবাহী ভ্যান, কাভার্ডভ্যানযান চলাচল সাময়িক বন্ধ; উদ্ধার ও উদ্ধারকাজ চলছে

স্থানীয়রা বলছেন, দুর্ঘটনার প্রধান কারণ ছিল কাভার্ডভ্যানের অতিরিক্ত গতি এবং যাত্রীবাহী ভ্যানের সঠিক নিয়ন্ত্রণের অভাব। পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, যাত্রীরা যেন ছাদের উপর বসে না যান এবং চালকেরা অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করে যানচলাচল পরিচালনা করেন।

মাদারীপুর জেলা প্রশাসনও দুর্ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত সহায়তা পাঠিয়েছে এবং ধীরে ধীরে মহাসড়কের যান চলাচল স্বাভাবিক করতে কাজ করছে। দুর্ঘটনার কারণে প্রায় দুই ঘণ্টা এই অংশের যান চলাচল বন্ধ ছিল। বর্তমানে ধাপে ধাপে যান চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক হয়েছে, তবে কর্মকর্তারা স্থানীয়দের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।

এ দুর্ঘটনা বাংলাদেশের সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে চলমান উদ্বেগকে আরও প্রসারিত করেছে। বিশেষত যাত্রীদের আচরণ, যানবাহনের অতি গতির কারণে এবং মহাসড়কে নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা প্রয়োগে ঘাটতির বিষয়গুলো গুরুত্বসহকারে নজরে আনা প্রয়োজন। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ভবিষ্যতে দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকায় পর্যবেক্ষণ ও নিয়মিত চেকপোস্ট বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।