মাদারীপুরের শিবচরে ৬ বছর বয়সী মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণ

মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায় এক ছয় বছর বয়সী মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। এই বর্বর ঘটনায় অভিযুক্ত যুবককে স্থানীয় জনতা আটক করে ব্যাপক গণপিটুনি দিয়েছে এবং পরে তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে। এই জঘন্য অপরাধের ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে শিবচর থানায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

গতকাল সোমবার (৮ ডিসেম্বর) বিকেলে শিবচর উপজেলায় এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটে। শিশুটির ওপর এমন পাশবিক নির্যাতনের খবর এলাকায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়, যার ফলস্বরূপ তারা অভিযুক্তকে গণপিটুনি দেয়।

স্থানীয় সূত্র এবং ভুক্তভোগী পরিবারের কাছ থেকে জানা যায়, ঘটনার দিন সকাল ১০টার দিকে শিশুটিকে প্রতিদিনের মতো স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় পড়তে পাঠানো হয়। কিন্তু শিশুটি দুপুরের নির্ধারিত সময়ে বাড়ি না ফেরায় তার পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে তাকে frantically খুঁজতে শুরু করেন। বহু খোঁজাখুঁজির পর, অবশেষে বিকেল ৪টার দিকে অভিযুক্ত যুবকের বাড়ির পাশ থেকে শিশুটিকে গুরুতর আহত ও মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধারের পর শিশুটি তার বাবা-মাকে বিস্তারিত জানায়। এই ভয়াবহ বিবরণ শুনে পরিবার দ্রুত শিশুটিকে নিয়ে শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসে। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকগণ শিশুটিকে জরুরি প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করেন, কিন্তু তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটায় উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে তাকে মাদারীপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালে স্থানান্তর (রেফার্ড) করা হয়। বর্তমানে শিশুটি ওই হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন রয়েছে।

এদিকে, শিশুকে ধর্ষণের এই মর্মান্তিক খবরটি এলাকায় জানাজানি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় জনতা একত্রিত হয়ে অভিযুক্ত যুবককে আটক করে। জনতা তখন অত্যন্ত বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে এবং অভিযুক্তকে বেধড়ক গণপিটুনি দিতে শুরু করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার উপক্রম হলে শিবচর থানা পুলিশ এবং দত্তপাড়া হাইওয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছায়। পুলিশের হস্তক্ষেপে গণপিটুনির শিকার অভিযুক্ত যুবককে জনগণের কবল থেকে উদ্ধার করা হয় এবং তাকে চিকিৎসার জন্য শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

এই ঘটনা প্রসঙ্গে শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, “ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে সুনির্দিষ্ট মামলা দায়ের করা হয়েছে। শিশুটিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে রাখা হয়েছে এবং অভিযুক্ত যুবককে তার স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।” তিনি আরও বলেন যে পুলিশ এই মামলার তদন্ত দ্রুত সম্পন্ন করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

এই ঘটনাটি এলাকায় শিশুদের নিরাপত্তা এবং সামাজিক পরিবেশ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সংলগ্ন এলাকায় শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।