ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি বলেন, “যেসব এলাকায় মাদক ও জুয়া নিয়ন্ত্রণে থাকবে, সেসব এলাকায় সরকার উন্নয়ন ও সহযোগিতায় অগ্রাধিকার দেবে। কিন্তু মাদকসেবী বা ব্যবসায়ীদের কোনো প্রকার সহায়তা দেওয়া হবে না।”
আজ সোমবার সকাল ১০টায় কুড়িগ্রাম-লালমনিরহাট সীমান্তবর্তী ঐতিহ্যবাহী সিন্দুরমতী পুকুরপাড়ে অনুষ্ঠিত মেলার প্রস্তুতিমূলক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা জানান। মন্ত্রী বলেন, “সিন্দুরমতী পুকুরকে আন্তর্জাতিক পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয় কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে। ঢাকার আর্কিটেক্ট দল ইতিমধ্যেই পুকুরের চারপাশকে আধুনিক, পরিকল্পিত ও দর্শণীয়ভাবে সাজানোর কাজ করছে। দর্শনার্থীরা যেন নিরাপদ ও মনোমুগ্ধকর পরিবেশ উপভোগ করতে পারে, সেই দিকে আমরা মনোযোগ দিচ্ছি।”
মন্ত্রী আরও বলেন, আসন্ন সিন্দুরমতী মেলায় সার্কাস, মাদক ও জুয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে, যা মেলার স্বাভাবিক ও ধর্মীয় পরিবেশ বজায় রাখতে সহায়ক হবে। তিনি বলেন, “আমরা চাই লালমনিরহাটকে একটি আলোকিত জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে। এজন্য মাদক ও জুয়া সহ সব ধরনের অপকর্ম বন্ধে প্রশাসন ইতোমধ্যেই কার্যক্রম শুরু করেছে। আমাদের স্বাধীনতার মূলমন্ত্র হলো—সকল ধর্ম ও মানুষের জন্য সমতা ও নিরাপত্তা।”
পুকুরের বর্তমান অবস্থার বিষয়ে মন্ত্রী জানান, “অপরিকল্পিতভাবে নির্মিত মন্দির ও দোকানপাট পুকুরের সৌন্দর্য নষ্ট করেছে। এগুলো অপসারণ করে একটি সুপরিকল্পিত ক্যাম্পাসের মধ্যে মন্দির স্থাপন করা হবে। বেদখল হওয়া জায়গাগুলো সরকারি সার্ভেয়ার দিয়ে উদ্ধার করা হবে। মন্দিরগুলো আধুনিক ও দর্শণীয়ভাবে গড়ে তোলা হবে, যাতে পর্যটক ও ভক্তরা মনোমুগ্ধ হন।”
সভায় নেতৃবৃন্দ এবং কর্মকর্তাদের উপস্থিতি ও বক্তব্যের সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিম্নে দেওয়া হলো—
| নাম ও পদবী | বক্তব্যের মূল বিষয় |
|---|---|
| কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেব নাথ | মেলার নিরাপত্তা ও স্থানীয় সহযোগিতা নিশ্চিতকরণ |
| কুড়িগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার খন্দকার ফজলে রাব্বি | আইন শৃঙ্খলা রক্ষা, মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে নজরদারি |
| লালমনিরহাট জেলা পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান | মেলার সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিকল্পনা |
| রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল ইমরান | পুকুরপাড়ের ভ্রাম্যমাণ ও পর্যটন ব্যবস্থাপনা |
| রাজারহাট থানার অফিসার ইনচার্জ মামনুর রশিদ | স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা এবং জননাগরিক সেবা নিশ্চিতকরণ |
| লালমনিরহাট সদর থানার অফিসার ইনচার্জ আ. মতিন | নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও প্রশাসনিক সহযোগিতা |
মন্ত্রী নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “জুলাই আন্দোলনের পর বাংলাদেশ আর আগের মতো থাকবে না। আমরা একটি সাম্যভিত্তিক, অসাম্প্রদায়িক ও মানবিক দেশ গড়ে তুলতে চাই। প্রধানমন্ত্রীর লক্ষ্য বাস্তবায়নে সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে।”
তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী শুক্রবার (২৭ মার্চ) অনুষ্ঠিতব্য ঐতিহ্যবাহী সিন্দুরমতী মেলায় দেশ-বিদেশ থেকে হাজারো ভক্ত ও দর্শনার্থী অংশগ্রহণ করবেন। সভায় হাজারো নারী-পুরুষ ঢলে উপস্থিত ছিলেন, মন্ত্রীর বক্তব্য সরাসরি শোনার জন্য।
মূল বার্তার সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপ:
| বিষয় | ঘোষণা ও পদক্ষেপ |
|---|---|
| মাদক ও জুয়া নিয়ন্ত্রণ | কঠোর পদক্ষেপ, সরকারী সহযোগিতা শুধুমাত্র নিয়মিত এলাকায় |
| সিন্দুরমতী পুকুর উন্নয়ন | আধুনিকায়ন, পরিকল্পিত ক্যাম্পাস, পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা |
| আসন্ন মেলা | সার্কাস, মাদক ও জুয়া নিষিদ্ধ, নিরাপদ ও ধর্মীয় পরিবেশ নিশ্চিত |
| প্রশাসনিক সমন্বয় | জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ ও স্থানীয় নেতাদের সমন্বিত উদ্যোগ |
মন্ত্রী দুলুর পদক্ষেপ ও বার্তা সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, পর্যটন উন্নয়ন এবং স্থানীয় শান্তি বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
