মাদকবিরোধী অবস্থানে রায়পুরায় হামলা

নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় মাদকবিরোধী অবস্থান গ্রহণকে কেন্দ্র করে এক কিশোর মসজিদ ইমামসহ তার পরিবারের তিন সদস্যের ওপর সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে উপজেলার আদিয়াবাদ ইউনিয়নের সেরাজনগর (নয়াচর) এলাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ তিন রাস্তার মোড়ে এই ভয়াবহ ঘটনা ঘটে। আকস্মিক এই হামলায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং স্থানীয় জনজীবনে চরম উদ্বেগের সৃষ্টি হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকার কিছু ব্যক্তি মাদক ব্যবসা ও সেবনের সঙ্গে জড়িত ছিল। বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে অসন্তোষ থাকলেও সম্প্রতি তা প্রকাশ্যে আসে। বিশেষ করে নয়ারবাড়ি মসজিদের কিশোর ইমাম নাহিদ হোসেন (১৭) এবং কয়েকজন সচেতন যুবক মিলে প্রকাশ্যে মাদকবিরোধী অবস্থান গ্রহণ করেন এবং সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করেন। এই অবস্থানই একটি সংঘবদ্ধ চক্রের ক্ষোভের কারণ হয়ে দাঁড়ায় বলে স্থানীয়দের দাবি।

ঘটনার দিন সকালে নাহিদ হোসেন তার বাবা জাকির হোসেন (৬০) এবং বড় ভাই জাহিদ হোসেন (২৫)-এর সঙ্গে বাড়ির পাশের রাস্তা দিয়ে হাঁটছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, পূর্বপরিকল্পিতভাবে সিয়াম, প্রান্ত ও মুন্নার নেতৃত্বে আনুমানিক ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা দা, ছুরি, লাঠি এবং আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন করে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে এবং মুহূর্তেই পুরো পরিবেশ অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে।

হামলায় ইমাম নাহিদ হোসেনের মাথা, হাত ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর কাটা ও আঘাত লাগে। তাকে রক্ষার চেষ্টা করলে তার বাবা ও ভাইও হামলার শিকার হন। স্থানীয়রা দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর নাহিদ হোসেনের অবস্থার অবনতি হলে তাকে নরসিংদী সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। অন্য দুইজন প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরে যান।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা এই ঘটনাকে পরিকল্পিত হামলা হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, মাদকবিরোধী সামাজিক অবস্থানের কারণে একটি চক্র ইচ্ছাকৃতভাবে এই সহিংসতা ঘটিয়েছে। তারা দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন কর্মকাণ্ডে জড়িত হওয়ার সাহস না পায়।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং এলাকায় নজরদারি ও অভিযান জোরদার করা হয়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা আরও কঠোর করা হবে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।

আহতদের বিস্তারিত তথ্য

নামবয়সসম্পর্কআঘাতের ধরনবর্তমান অবস্থা
নাহিদ হোসেন১৭ইমামমাথা, হাত ও শরীরে গুরুতর কাটা ও আঘাতনরসিংদী সদর হাসপাতালে স্থানান্তরিত
জাকির হোসেন৬০বাবালাঠির আঘাতে আহতপ্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ
জাহিদ হোসেন২৫ভাইমাথা ও শরীরে আঘাতপ্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ

এই ঘটনার পর পুরো এলাকায় মাদকবিরোধী আন্দোলন, সামাজিক নিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয়রা মনে করছেন, দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ ছাড়া এ ধরনের সহিংসতা রোধ করা কঠিন হবে। তারা একই সঙ্গে এলাকায় মাদক ব্যবসা সম্পূর্ণভাবে দমন এবং দায়ীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন।