মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে দামে বড় পতন

দেশের স্বর্ণবাজারে মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব কাটিয়ে কিছুটা স্বস্তির বার্তা দিতে এবার স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। চার দফা টানা দাম বাড়ানোর পর এক লাফে ভরি প্রতি ৫ হাজার ৪৪৭ টাকা কমানোয় বাজারে সাময়িক ভারসাম্য ফিরে আসতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। শনিবার বাজুসের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নতুন এই মূল্য আগামী রোববার থেকে কার্যকর হবে।

নতুন মূল্যতালিকা অনুসারে, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারিত হয়েছে ২ লাখ ৮ হাজার ২৭২ টাকা। এর আগে ১৩ নভেম্বর ভরি প্রতি ৫ হাজার ২৪৮ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের দাম ২ লাখ ১৩ হাজার ৭১৯ টাকায় উন্নীত করা হয়েছিল। অর্থাৎ মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে স্বর্ণের বাজারে বড় ধরনের মূল্যপরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে। এ পরিবর্তন স্বর্ণখাতের ব্যবসায়ী ও ক্রেতা উভয়ের জন্যই নতুন হিসাব-নিকাশ তৈরি করেছে।

এছাড়া ২১ ক্যারেট স্বর্ণের নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ভরি প্রতি ১ লাখ ৯৮ হাজার ৮০১ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের ক্ষেত্রে তা ১ লাখ ৭০ হাজার ৩৯৯ টাকা। সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের ভরি এখন পাওয়া যাবে ১ লাখ ৪১ হাজার ৭১৭ টাকায়। বাজারজুড়ে দেখা গেছে, সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় অনেক ক্রেতাই কেনাকাটা পিছিয়ে রেখেছিলেন। নতুন এই মূল্যহ্রাস আবারও বাজারে কিছুটা প্রাণ ফিরিয়ে আনতে পারে।

বাজুসের পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, চলতি বছর এখন পর্যন্ত মোট ৭৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫৩ বার দাম বেড়েছে এবং ২৪ বার কমানো হয়েছে। গত বছর মোট ৬২ বার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল—৩৫ বার বাড়ানো এবং ২৭ বার কমানো হয়েছিল দাম। অর্থাৎ চলতি বছর স্বর্ণের দামে ওঠানামার মাত্রা অতীত বছরের তুলনায় বেশি, যা দেশের অর্থবাজারের সামগ্রিক অস্থিরতার প্রতিফলন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা ও স্থানীয় বাজারে ডলারের উচ্চমূল্য এই ওঠানামার বড় কারণ।