মাতৃভাষা ভাস্কর্য উন্মোচন নিউইয়র্কে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা স্মরণে ,আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস স্মরণে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে প্রথমবারের মতো একটি পূর্ণাঙ্গ ভাস্কর্য উন্মোচন করা হয়েছে। জাতিসংঘ সদর দপ্তরের বিপরীতে দাগ হ্যামারশোল্ড প্লাজায় স্থাপিত ভাস্কর্যটি গতকাল সোমবার এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে উন্মোচন করা হয়। ভাস্কর্য উন্মোচন করেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ বিন মোমেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল শামীম আহসান ও নিউইয়র্ক স্টেটের গভর্নর এন্ড্রু কুওমোর আঞ্চলিক প্রতিনিধি হারেশ পারেখ।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগ এবং নিউইয়র্ক সিটির পার্ক ব্যবস্থাপনা বিভাগের সক্রিয় সমর্থনে ভাস্কর্যটি স্থাপন করা হয়েছে। বাংলাদেশি-আমেরিকান চারুশিল্পী খুরশিদ আলম সেলিমের নকশার ভিত্তিতে ভাস্কর্যটি তৈরি করেছেন বাংলাদেশের মৃণাল হক। কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ফেব্রুয়ারি মাসজুড়ে ভাস্কর্যটি দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। ১৫ ফুট উচ্চতার ভাস্কর্যটি এক ফুট উঁচু একটি বেদির ওপর স্থাপন করা হয়েছে।
ফাইবার গ্লাসে তৈরি ভাস্কর্যটির কেন্দ্রে একজন মায়ের মূর্তি। তিনি মাতৃভাষার প্রতীক। তাঁর পাশে বিভিন্ন ভাষা ও জাতির মানুষের প্রতীকী উপস্থাপন। তাঁদের উত্থিত হাতে রয়েছে মাতৃভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার দৃঢ় প্রতিজ্ঞা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নিউইয়র্ক স্টেটের গভর্নর ও নিউইয়র্ক শহরের কন্ট্রোলারের পক্ষ থেকে মুক্তধারা ফাউন্ডেশন ও বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির সদস্যদের উদ্দেশে দুটি ভিন্ন ভিন্ন স্মারকপত্র হস্তান্তর করা হয়।

গভর্নর এন্ড্রু কুওমো তাঁর পাঠানো বার্তায় নিউইয়র্কে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপনে নেতৃত্ব দিতে মুক্তধারা ফাউন্ডেশনকে অভিনন্দন জানান। ১৯৯২ সাল থেকে মুক্তধারা ফাউন্ডেশন জাতিসংঘের সামনে প্রতিবছর একুশের প্রথম প্রহরে একটি প্রতীকী স্তম্ভে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়ে আসছে। ফাউন্ডেশনের মুখ্য নির্বাহী বিশ্বজিৎ সাহা জানিয়েছেন, এ বছর ঢাকার সঙ্গে মিল রেখে ২০ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সময় বেলা একটা এক মিনিটে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।
ভাস্কর্য উন্মোচনের অনুষ্ঠানে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বাংলাদেশি ও বিদেশি দর্শক উপস্থিত ছিলেন। এ সময় অনেক ভিন্নভাষী দর্শক ভাস্কর্যের সামনে দাঁড়িয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ছবি তোলেন।