মাতারবাড়ীর বিদ্যুৎ কক্সবাজার ও চট্রগ্রামের চাহিদা মিটিয়ে সরবারহ হবে অন্য গ্রিডেও 

মাতারবাড়ীর বিদ্যুৎ কক্সবাজার ও চট্রগ্রামের চাহিদা মিটিয়ে সরবারহ হবে অন্য গ্রিডেও । চলতি বছরের ডিসেম্বরেই চালু হতে যাচ্ছে কক্সবাজারের মহেশখালীর মাতারবাড়ী কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট। এখন পরীক্ষমূলক উৎপাদন শুরু হলেও আগামী বছরের এপ্রিলে উৎপাদনে যাবে আরো একটি ইউনিট। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মাতারবাড়ীতে উৎপাদিত এই বিদ্যুৎ ৪০০ কেভি ক্ষমতাসম্পন্ন সঞ্চালন লাইনের মাধ্যমে চট্টগ্রাম নগরী ও কক্সবাজারে সরবারহ করা হবে। দুইটি ইউনিট চালু হলেই চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে লোডশেডিং কমে যাবে। উৎপাদিত বিদ্যুৎ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের চাহিদা মিটিয়ে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ অন্য গ্রিডেও সরবারহ করা হবে।

 

মাতারবাড়ীর বিদ্যুৎ কক্সবাজার ও চট্রগ্রামের চাহিদা মিটিয়ে সরবারহ হবে অন্য গ্রিডেও  

মাতারবাড়ীর বিদ্যুৎ কক্সবাজার ও চট্রগ্রামের চাহিদা মিটিয়ে সরবারহ হবে অন্য গ্রিডেও  

সরজমিনে দেখা যায়, মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ী ও ধলঘাটা ইউনিয়নের ১ হাজার ৪১৪ একর জমিতে নির্মাণ করা হয়েছে বিদ্যুৎ প্রকল্পটি। সমুদ্রপথে বিদেশ থেকে কয়লা নিয়ে জাহাজ ভিড়ছে বন্দরে। পরিবেশসম্মত উপায়ে স্থাপন করা হয়েছে কোল্ড ইয়ার্ড। সাগরে যাতে কোনো প্রকার বর্জ্য যেতে না পারে, সেই ব্যবস্থাও করা হয়েছে। জেটিতে রাখা জাহাজ থেকে কয়লা নামানোর সময় মাত্র একবার ওই কয়লা দেখা যাবে। এরপর ওই কয়লা সরাসরি প্ল্যান্টে চলে যাবে। কেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ বিতরণের জন্য সঞ্চালন লাইন স্থাপনের কাজ শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে।

কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প সূত্র জানায়, কয়লা দিয়ে উৎপাদিত বিদ্যুতের ৬০০ মেগাওয়াট আগামী এপ্রিলে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হতে যাচ্ছে। শুধু তাই নয়, বিদ্যুৎকেন্দ্রটির পাশেই নির্মাণ করা হচ্ছে গভীর সমুদ্র বন্দর। যেখানে ভিড়তে পারবে ৮২০০ টিইইউএস ক্ষমতার কন্টেইনার জাহাজ। এই বন্দরের ফলে একদিকে যেমন পণ্য পরিবহনে সময় কম লাগবে। অন্যদিকে সহজ আমদানি-রপ্তানিতে দেশের অর্থনীতিতে আমূল পরিবর্তন আসবে। এই দুটি মেগা প্রকল্প ঘিরে ব্যাপক উন্নয়ন হচ্ছে স্থানীয় অবকাঠামো খাতে। সৃষ্টি হয়েছে কর্মসংস্থানের।

 

মাতারবাড়ীর বিদ্যুৎ কক্সবাজার ও চট্রগ্রামের চাহিদা মিটিয়ে সরবারহ হবে অন্য গ্রিডেও  

 

বাস্তবায়নকারী সংস্থা কোল পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি লিমিটেডডের নির্বাহী পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার নাজমুল হক বলেন, ইতোমধ্যে পরিক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজ চলমান রয়েছে। কক্সবাজারের চকরিয়ার ফাসিয়াখালী থেকে মাতারবাড়ী পর্যন্ত নির্মাণ করা হচ্ছে ২৭ দশমিক ২ কিলোমিটার সড়ক। এর মধ্যে মাতারবাড়ী বন্দর থেকে ধলঘাট গোলচত্বর পর্যন্ত সোয়া ১ কিলোমিটার দীর্ঘ সংযোগ সড়ক চারলেনে উন্নতি করা হচ্ছে। এছাড়া ধলঘাট থেকে ফাসিয়াখালী পর্যন্ত পণ্য পরিবহনের জন্য ২ লেনের ২৬ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে। যা ভবিষ্যতে ৪ লেনের মহাসড়কে উন্নতি করা হবে বলে জানিয়েছেন সওজের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক মো. জাকির হোসেন।

Leave a Comment