মাতারবাড়ি বিদ্যুৎ কেন্দ্রে অগ্নিকাণ্ড: নেভাতে লড়ছে ফায়ার সার্ভিসের ৬ ইউনিট

কক্সবাজারের মহেশখালীতে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মেগা প্রকল্প মাতারবাড়ি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভেতরে অবস্থিত স্ক্র্যাপ ইয়ার্ডে এই আগুনের সূত্রপাত হয়। দীর্ঘ চার ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও আগুনের লেলিহান শিখা এখনও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। আগুনের তীব্রতা এবং ইয়ার্ডে থাকা দাহ্য পদার্থের কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।

ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি ও উদ্ধার তৎপরতা

সোমবার রাতে হঠাৎ করেই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভেতর থেকে আগুনের কুণ্ডলী এবং কালো ধোঁয়া আকাশে উড়তে দেখেন স্থানীয়রা। সাথে সাথেই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নিজস্ব দুটি ফায়ার সার্ভিস ইউনিট আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। আগুনের ভয়াবহতা বিবেচনায় দ্রুত খবর দেওয়া হয় মহেশখালী ও চকরিয়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে। রাত ৯টা ৫০ মিনিটের দিকে মহেশখালী ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট এবং পরবর্তীতে চকরিয়া থেকে আরও দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। বর্তমানে ৬টি ইউনিট সম্মিলিতভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

ঘটনার বিস্তারিত তথ্য ও বর্তমান অবস্থা নিচের সারণিতে তুলে ধরা হলো:

মাতারবাড়ি অগ্নিকাণ্ডের সংক্ষিপ্ত বিবরণ ও বর্তমান অবস্থা

বিষয়ের ক্ষেত্রবিস্তারিত তথ্য ও পরিসংখ্যান
অগ্নিকাণ্ডের স্থানমাতারবাড়ি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভেতর অবস্থিত স্ক্র্যাপ ইয়ার্ড।
আগুনের সময়১২ জানুয়ারি, ২০২৬; রাত আনুমানিক ৮:০০ ঘটিকা।
মোতায়েনকৃত ইউনিটমোট ৬টি ইউনিট (নিজস্ব ২, মহেশখালী ২ ও চকরিয়া ২)।
দাহ্য পদার্থের ধরণপরিত্যক্ত প্লাস্টিক, তুলা, শুকনো কাঠ ও লোহার টুকরো।
আগুনের সম্ভাব্য কারণবহিরাগতদের অনুপ্রবেশ বা পথশিশুদের মাধ্যমে আগুনের শঙ্কা।
বর্তমান স্থিতিআগুন নেভানোর কার্যক্রম অব্যাহত (এখনও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি)।

আগুন নিয়ন্ত্রণে বাধার কারণসমূহ

মহেশখালী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন লিডার সালাউদ্দিন কাদের ঘটনাস্থল থেকে জানান, স্ক্র্যাপ ইয়ার্ডটি মূলত বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিভিন্ন পরিত্যক্ত মালামালের স্তূপ। এখানে বিপুল পরিমাণ শুকনো কাঠ, তুলা এবং প্লাস্টিক জাতীয় দাহ্য পদার্থ থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়েছে। প্লাস্টিক পোড়া ঘন কালো ধোঁয়ার কারণে ফায়ার ফাইটারদের আগুনের উৎসের কাছাকাছি পৌঁছাতে বেগ পেতে হচ্ছে। বাতাস বেশি থাকায় আগুন পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হলেও ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা তা রুখে দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

তদন্ত ও কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক ভাষ্য

আগুনের প্রকৃত কারণ নিয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া না গেলেও বিদ্যুৎ কেন্দ্র কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে ফায়ার সার্ভিস জানায়, স্ক্র্যাপ ইয়ার্ড এলাকায় মাঝেমধ্যে বহিরাগত ও পথশিশুদের দৌরাত্ম্য দেখা যায়। ধারণা করা হচ্ছে, তাদের মাধ্যমে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমরান মাহমুদ ডালিম অগ্নিকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, বর্তমানে অগ্নিনির্বাপণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসার পর ক্ষয়ক্ষতির আর্থিক পরিমাণ নির্ধারণ এবং তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।

বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মতো এমন একটি স্পর্শকাতর স্থানে নিরাপত্তা বেষ্টনী থাকা সত্ত্বেও কীভাবে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটল এবং বহিরাগতদের প্রবেশের অভিযোগ কেন উঠছে, তা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত এই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।