মাটির নিচে উদ্ধার হচ্ছে এমভি টনি বেস্ট

 

উড়িরচরের ফসলি জমিতে প্রায় তিন দশক আগে আটকে যাওয়া বিদেশি জাহাজ ‘এমভি টনি বেস্ট’ উদ্ধার কাজ এখন তীব্র গতিতে এগোচ্ছে। সন্দ্বীপ উপজেলার বিচ্ছিন্ন ইউনিয়ন উড়িরচরের উত্তর-পশ্চিমে চর ন্যাংটা এলাকায় ৪ জানুয়ারি থেকে একাধিক এক্সক্যাভেটর দিয়ে খনন শুরু হয়েছে। স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, প্রতিদিন উন্মুখ দর্শক ও উৎসুক মানুষের ভিড় বেড়ে চলেছে। বর্তমানে খননকাজে প্রায় ১৭ ফুট গভীর একটি গর্ত খোঁড়া হয়েছে, তবে জাহাজের মূল কাঠামোর দেখা এখনও মেলেনি।

উদ্ধারকাজ চালানো হচ্ছে উড়িরচরের বাংলাবাজার থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে কোস্টগার্ড কন্টিনজেন্টের পাশের ধানির জমি পার হয়ে। দুটি এক্সক্যাভেটর দিয়ে ৫০ ফুট চওড়া ও ২০০ ফুট দীর্ঘ জায়গাজুড়ে খনন করা হচ্ছে। মাটির নিচে চাপা পড়ে থাকা জাহাজটি ১৯৯৩ সালে লাইবেরিয়াভিত্তিক বেস্ট শিপিং করপোরেশনের মালিকানাধীন অবস্থায় নোয়াখালী উপকূলে আটকে যায়।

স্থানীয়দের কথায়, জাহাজ আটকে যাওয়ার সময় এলাকায় স্থায়ী বসতি ছিল না, কেবল জলরাশি ও খালি চর ছিল। পরবর্তী তিন দশকে চরটি উঁচু হয়ে বসতি ও চাষাবাদ গড়ে ওঠে, ফলে জাহাজটি মাটির নিচে চাপা পড়ে পুরোপুরি অদৃশ্য হয়ে যায়। প্রত্যক্ষদর্শী মুকবুল হোসেন (৭৫) জানান, “জাহাজ আটকে যাওয়ার সময় চারপাশের লোকজন দামি জিনিসপত্র নিয়ে নিয়েছিল। এরপর ধীরে ধীরে জাহাজ মাটির নিচে চলে যায়।”

বর্তমান মালিক মেসার্স রায়হান ট্রেডার্স জানিয়েছে, জাহাজটির দৈর্ঘ্য ৪৭০ ফুট ও প্রস্থ ৬৮ ফুট। এটি বর্তমানে স্ক্র্যাপ বিক্রির জন্য তোলা হচ্ছে।

এমভি টনি বেস্টের সারসংক্ষেপ

বিষয়বিবরণ
নামএমভি টনি বেস্ট
ধরণবাণিজ্যিক কার্গো জাহাজ
প্রাথমিক মালিকবেস্ট শিপিং করপোরেশন, লাইবেরিয়া
আটকে যাওয়ার সাল১৯৯৩
বর্তমান মালিকমেসার্স রায়হান ট্রেডার্স
দৈর্ঘ্য৪৭০ ফুট
প্রস্থ৬৮ ফুট
উদ্ধারকাজ শুরু৪ জানুয়ারি ২০২৬
খননের গভীরতাসর্বোচ্চ ১৭ ফুট, বোরিং ৩২–৫০ ফুট

১৯৯৩ সালের পর জাহাজের মালিকানা একাধিকবার পরিবর্তন হয়েছে। মুসলিম ট্রেডার্স প্রথমে ৫৪ লাখ টাকায় কিনে কিছু অংশ কেটে নিলেও পুরো উদ্ধার করতে পারেনি। পরবর্তী সময়ে ২০১০ সালে ঢাকার ইউছুফ আলীও চেষ্টা চালান, যা ব্যর্থ হয়।

বর্তমান উদ্ধারকাজের নেতৃত্বে মো. জামাল উদ্দিন জানাচ্ছেন, ১০ একর জমি ক্রয় করে জাহাজের অবস্থান নিশ্চিত করেছেন। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বোরিং অনুসন্ধানে জানা গেছে, জাহাজের সর্বনিম্ন অবস্থান ৩২ ফুট এবং সর্বোচ্চ ৫০ ফুট গভীরে। প্রত্যাশা করা হচ্ছে, ৪০ ফুট গভীরে পৌঁছালে জাহাজ দৃশ্যমান হবে।

উদ্ধারকাজ শুরু হওয়ার পর থেকে স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহল তীব্র। দৈনিক ভিড় ও আলোচনা বেড়ে চলেছে। কেউ বাহবা দিচ্ছেন, কেউ বলছেন এটি স্থানীয় মাটির ব্যবসা বৃদ্ধিতে সহায়ক। তবে এলাকাবাসী একমত, ৩৩ বছর পর মাটির নিচ থেকে জাহাজ তোলার এই কাজ তাদের ইতিহাসের অংশ হয়ে থাকবে।