কক্সবাজারের মহেশখালীর জ্যাম ঘাট এলাকায় অবৈধ আর্টিসানাল ট্রলিং বোট ও জাল জব্দ করেছে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড। এ সময় এক জেলেকে আটক করা হয়। কোস্টগার্ডের এ অভিযান স্থানীয় মৎস্য সম্পদ রক্ষার এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে সংবাদমাধ্যমকে জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল বুধবার সন্ধ্যা ৭টায় মহেশখালীর জ্যাম ঘাট এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এই অভিযান কক্সবাজার ও মহেশখালী স্টেশনের যৌথ উদ্যোগে সম্পন্ন করা হয়।
তিনি বলেন, “অভিযানে ১টি অবৈধ আর্টিসানাল ট্রলিং বোট জব্দ করা হয়েছে। বোটে তল্লাশি চালানোর পর ৬টি ট্রলিং জাল উদ্ধার করা হয়েছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ১২ লাখ টাকা।” আটক জেলেকে কোস্টগার্ড আইনের আওতায় রেখে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছেন তিনি।
জেলেদের অবৈধ ট্রলিং মাছ ধরা জাতীয় মৎস্য সম্পদের জন্য বিপজ্জনক। ছোট নৌকা ও ট্রলিং জালের মাধ্যমে অধিক মাত্রায় মাছ আহরণ করলে সমুদ্র ও নদীর মাছের প্রজনন চক্র ব্যাহত হয়। কোস্টগার্ড সূত্রে জানা গেছে, বিশেষ করে হালকা আর্টিসানাল ট্রলিং জাল ছোট ও প্রজননক্ষম মাছও সংগ্রহ করে, যা পরিবেশ ও মৎস্য সম্পদের জন্য ক্ষতিকর।
জব্দকৃত বোট ও জালের বিস্তারিত তথ্য নিম্নে টেবিলে দেওয়া হলো:
| ধরন | পরিমাণ | আনুমানিক মূল্য (টাকা) | অবস্থান |
|---|---|---|---|
| আর্টিসানাল ট্রলিং বোট | ১টি | ৪ লাখ | জ্যাম ঘাট, মহেশখালী |
| ট্রলিং জাল | ৬টি | ১২ লাখ | বোটের তল্লাশিতে উদ্ধার |
লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বলেন, “মৎস্য সম্পদ রক্ষার জন্য কোস্টগার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে। স্থানীয়দের সচেতন করার পাশাপাশি অবৈধ ট্রলিং কার্যক্রম প্রতিরোধে নিয়মিত নজরদারি করা হবে।”
কক্সবাজার মহেশখালী অঞ্চলের মৎস্যজীবীরা জানান, কোস্টগার্ডের এমন অভিযান স্থানীয় ও প্রজাতি নির্ভর মৎস্যসম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। তারা আশা করছেন, এই ধরনের অভিযান নিয়মিত থাকলে অবৈধ ও ক্ষতিকর মাছ ধরা কার্যক্রম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।
এটি কক্সবাজার সমুদ্র ও স্থানীয় নদীজলাশয়ের মৎস্য সম্পদ রক্ষায় এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে ধরা হচ্ছে, যা স্থানীয় অর্থনীতির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।
