ফেনী শহরের মহিপাল এলাকায় অবস্থিত বাস টার্মিনাল প্রতিনিয়ত মাদক ও জুয়ার এক অপ্রতিরোধ্য আস্তানায় পরিণত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দা, দোকানি ও পরিবহন সংশ্লিষ্ট শ্রমিকরা জানান, সন্ধ্যার পরপরই ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে ফ্লাইওভারসংলগ্ন এই এলাকায় গড়ে ওঠে মাদক সেবন ও জুয়ার রমরমা আসর। এর ফলে সাধারণ মানুষের চলাচল ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
কার্যক্রমের বিস্তার ও সিন্ডিকেটের প্রভাব
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সুগন্ধা, যমুনা, যাত্রীসেবা ও শান্তি পরিবহনের টার্মিনাল এলাকায় সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে মোটরসাইকেলযোগে একদল লোক জড়ো হয়। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় কবির আহমেদের ছেলে শিপন নৈশপ্রহরীর দায়িত্বে থাকলেও তিনি একটি প্রভাবশালী চক্রের মাধ্যমে মাদক ও জুয়ার কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করছেন। তার সঙ্গে ইমন, সেনবাগের পলাশ এবং বালিগাঁও ইউনিয়নের আকরামপুরের মাইন উদ্দিনসহ ১০-১২ জনের একটি সিন্ডিকেট যুক্ত।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শিপন নৈশপ্রহরীর দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে তার প্রভাব আরও বেড়ে যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি নিজেকে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচয় দেন এবং সন্ধ্যার পরপরই টার্মিনালের আশপাশে মাদক, জুয়া ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড বিস্তার লাভ করে। এমন পরিস্থিতিতে বাস মালিকরা সন্ধ্যার পর সেখানে প্রবেশ করতে ভয় পান।
পরিবহন শ্রমিক ও মালিকরা জানাচ্ছেন, টার্মিনালের এই পরিস্থিতির কারণে দৈনন্দিন হিসাব-নিকাশ ও অর্থ আদায় কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। অনেক সময় মাদক ও জুয়ার আসরের কারণে তারা কাজ অসম্পূর্ণ রেখেই ফিরে আসতে বাধ্য হন। এতে আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি পরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছে।
এক শ্রমিক নেতা জানিয়েছেন, প্রায় ৩০০-এর বেশি চালক ও হেলপার টার্মিনালের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও তাদের একটি বড় অংশ মাদক ও জুয়ার সঙ্গে জড়িত। এই কারণে মালিকদের নিয়ন্ত্রণ কার্যত শূন্যে নেমে এসেছে।
অভিযোগ ও পরিস্থিতি সংক্ষিপ্ত চিত্র
| বিষয় | অভিযোগ/তথ্য |
|---|---|
| কার্যক্রম | মাদক সেবন ও জুয়া |
| সময় | প্রতিদিন সন্ধ্যার পর |
| স্থান | মহিপাল বাস টার্মিনাল এলাকা |
| সিন্ডিকেট সদস্য | ১০-১২ জন |
| প্রধান অভিযুক্ত | শিপন (নৈশপ্রহরী) |
| প্রভাব | শ্রমিক ও মালিকদের নিয়ন্ত্রণ হ্রাস |
| স্থানীয় প্রতিক্রিয়া | আতঙ্ক ও অসন্তোষ |
শ্রমিক নেতা শহীদ উল্যাহ বলেন, “সন্ধ্যার পর টার্মিনালে যাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এটি এখন একটি ‘নিরাপদ মাদক আস্তানা’ হিসেবে পরিচিত। দ্রুত নিয়ন্ত্রণ না করলে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেবে।”
ফেনী জেলা বাস ও মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান চৌধুরী জানান, শিপনের বিরুদ্ধে অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে ফেনী মডেল থানার ওসি জানান, পূর্বেও একাধিকবার অভিযান চালিয়ে মাদকসেবী ও কারবারিদের আটক করা হয়েছে। জুয়ার বিষয়ে তথ্য পেলে গোপন অভিযানের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসনিক পদক্ষেপ দ্রুত না নিলে মহিপাল বাস টার্মিনাল এলাকায় মাদক ও অপরাধের কেন্দ্র আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে, যা পুরো পরিবেশকে অনিয়ন্ত্রিত ও বিপজ্জনক করে তুলতে পারে।
