মহান বিজয় দিবস বাঙালি জাতির ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়। ১৯৭১ সালের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীনতার স্মৃতিকে নতুন করে জাগ্রত করতে প্রতি বছর ১৬ ডিসেম্বর রাষ্ট্রীয়ভাবে নানা কর্মসূচি পালিত হয়। এরই অংশ হিসেবে এবারও সূর্যোদয়ের আগেই সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
মঙ্গলবার ভোর ৬টা ৩৩ মিনিটে, দিনের একেবারে প্রথম প্রহরে রাষ্ট্রপতি জাতীয় স্মৃতিসৌধের মূল বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এই সময়টুকু ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। নিস্তব্ধ ভোর, কুয়াশাচ্ছন্ন পরিবেশ আর শহীদ মিনারের নীরবতা—সব মিলিয়ে যেন ইতিহাস নিজেই কথা বলছিল। রাষ্ট্রপতির এই উপস্থিতি ছিল কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং স্বাধীনতার প্রতি রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতার প্রতীক।
পুষ্পস্তবক অর্পণের পর রাষ্ট্রপতি কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। এই নীরবতা ছিল হাজার শব্দের চেয়েও বেশি অর্থবহ। ১৯৭১ সালে যারা জীবন দিয়ে এ দেশকে স্বাধীন করেছেন, সেই বীর সন্তানদের আত্মত্যাগের প্রতি গভীর সম্মান ও কৃতজ্ঞতার প্রকাশ ঘটে এই নীরব মুহূর্তে।
এরপর সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর একটি সুসজ্জিত চৌকস দল রাষ্ট্রীয় সালাম প্রদান করে। বিউগলের করুণ সুর বাতাসে ভেসে ওঠে, যা উপস্থিত সকলের হৃদয় ছুঁয়ে যায়। মুহূর্তটির আবহ ছিল আবেগঘন ও গাম্ভীর্যে পূর্ণ।
এই শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠানে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারের সদস্য, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধি এবং সামরিক ও বেসামরিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তাদের উপস্থিতি প্রমাণ করে, মুক্তিযুদ্ধ শুধু অতীত নয়—এটি আজও রাষ্ট্র পরিচালনার নৈতিক ভিত্তি।
এই আয়োজনের মাধ্যমে আবারও স্পষ্ট হয়, স্বাধীনতা কেবল একটি অর্জন নয়; এটি একটি চলমান দায়িত্ব। নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ করতে রাষ্ট্রপতির এই শ্রদ্ধা নিবেদন গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে।