“মহল প্রশাসনের কিছু অংশ গোপনে মবকে সমর্থন করছে: তথ্যমন্ত্রী”

বরিশাল: মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে জেলা প্রশাসন কর্তৃক আয়োজিত অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী মো. জহির উদ্দিন স্বপন গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “দেশের একটি অংশ প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে গোপনে মবকে পৃষ্ঠপোষকতা করছে।” তিনি উল্লেখ করেন, প্রশাসনের এমন কার্যকলাপ দেশের গণতন্ত্রের জন্য হুমকিস্বরূপ।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, “একটি দেশে গণতন্ত্র চলতে পারে না যদি সেখানে স্বাধীন ও জবাবদিহিমূলক গণমাধ্যম না থাকে। শুধু অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করলেই কাজ হয় না, আমাদের পরিকল্পনা থাকতে হবে সুন্দর সমাজ গঠনের।”

তিনি আরও যোগ করেন, “সরকারি দায়িত্বে থাকা অবস্থায় আমরা সব ধরনের তথ্য এবং ঘটনার পর্যবেক্ষণ রাখি। প্রশাসনের কিছু মহল যারা মবকে প্রশ্রয় দেওয়ার চেষ্টা করে, তাদের কার্যক্রম আমরা চিহ্নিত করব এবং জনগণের সামনে প্রকাশ করব। জবাবদিহিতা জনগণের কাছে সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ এবং জনগণের জন্য দেশের প্রস্তুতি আমাদের মূল কাজ।”

তথ্যমন্ত্রী দেশের সাম্প্রতিক নির্বাচনের অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গে বলেন, “এবারের জাতীয় নির্বাচনে আমরা লক্ষ্য করেছি যে অনাবশ্যক কারণে ভোটের পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর কারণ অনুসন্ধানের জন্য আমরা একটি তদন্ত কমিটি গঠন করতে যাচ্ছি। ভবিষ্যতে আমরা নিশ্চিত চাই, নির্বাচন হবে সম্পূর্ণ অবাধ, নিরপেক্ষ এবং স্বচ্ছ।”

নির্বাচন ও প্রশাসনের সমস্যা সংক্রান্ত তথ্য

নিম্নলিখিত টেবিলে নির্বাচনের কিছু গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ ও প্রশাসনের সংক্ষিপ্ত মন্তব্য তুলে ধরা হলো:

বিষয়মন্তব্য/পর্যবেক্ষণকার্যক্রম/উদ্দেশ্য
প্রশাসনের অংশীদারিত্বকিছু প্রশাসনিক মহল মবকে গোপনে পৃষ্ঠপোষকতা করছেচিহ্নিত করে গণমাধ্যমের মাধ্যমে প্রকাশ করা হবে
গণমাধ্যম স্বাধীনতাস্বাধীন গণমাধ্যম থাকলে দেশপ্রতি জবাবদিহি নিশ্চিত হয়সরকারের নীতি ও পরিকল্পনা জনগণের সামনে তুলে ধরা হবে
জনগণের জবাবদিহিতাজনগণই চূড়ান্ত বিচারকদেশের জন্য নীতি ও পরিকল্পনা গণমাধ্যমে জানানো হবে
জাতীয় নির্বাচনকিছু ভোটের পরিবেশ বিনা কারণে নষ্ট হয়েছেতদন্ত কমিটি গঠন এবং ভবিষ্যতের নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে

তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “সরকার পরিচালনা এবং দেশের সকল সমস্যার সমাধানে আমাদের কাছে পর্যাপ্ত তথ্য রয়েছে। আমরা জনগণের জন্য এক সুসংগঠিত, স্বচ্ছ ও ন্যায়সংগত প্রশাসন নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।”

উল্লেখ্য, বরিশাল জেলা প্রশাসন আয়োজনের মাধ্যমে শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরেছে। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা, স্থানীয় সমাজকর্মী এবং গণমাধ্যমকর্মী উপস্থিত ছিলেন।