মস্তিষ্কে গুলির স্প্লিন্টার, লাইফ সাপোর্টে ওসমান হাদি: যা বলছেন নিউরোসার্জন

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদির ওপর সন্ত্রাসী হামলার পর তার শারীরিক অবস্থা ক্রমেই জটিল আকার ধারণ করছে। রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে থাকা এই রাজনীতিকের সর্বশেষ সিটি স্ক্যান রিপোর্ট চিকিৎসকদের গভীর উদ্বেগে ফেলেছে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগের চিকিৎসক ডা. আব্দুল আহাদ জানান, গুলিটি মস্তিষ্কের টেম্পোরাল অংশের ভেতর দিয়ে প্রবেশ করেছে, যা মানুষের স্মৃতি, অনুভূতি ও স্নায়বিক নিয়ন্ত্রণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এমন জায়গায় আঘাত পাওয়ায় রোগীর ঝুঁকি বহুগুণে বেড়ে যায়।

তিনি আরও জানান, গুলি অত্যন্ত কাছ থেকে ছোড়া হয়েছিল এবং তা ছিল ‘এক্সপার্ট শট’। এতে বোঝা যায়, হামলাকারী গুলির অবস্থান ও মানবদেহের গঠন সম্পর্কে অবগত ছিল। গুলিটি গুরুত্বপূর্ণ রক্তনালীর পাশ দিয়ে চলে যাওয়ায় বড় ধরনের রক্তক্ষরণ ও মস্তিষ্কে রক্ত জমাট বাঁধার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

অস্ত্রোপচারের সময় চিকিৎসকরা গুলির বড় অংশ সরাতে সক্ষম হলেও কিছু স্প্লিন্টার মস্তিষ্কে রয়ে গেছে। এগুলো ভবিষ্যতে সংক্রমণ, খিঁচুনি কিংবা স্থায়ী স্নায়বিক ক্ষতির কারণ হতে পারে। এ ছাড়া অক্সিজেনের স্বল্পতার কারণে তার মস্তিষ্কে স্থায়ী ক্ষতির আশঙ্কাও করছেন চিকিৎসকরা।

এক পর্যায়ে ওসমান হাদির কিডনির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেলেও বর্তমানে তা কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে। তবে চিকিৎসকরা বলছেন, এটি সাময়িক উন্নতি, পুরোপুরি ঝুঁকি কাটেনি।

বর্তমানে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় তার ফুসফুসের অবস্থা অপরিবর্তিত রয়েছে। চিকিৎসক বোর্ড নিয়মিত তার অবস্থা পর্যালোচনা করছে।

পরিবারের পক্ষ থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। ইতোমধ্যে তার চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি বিদেশি বিশেষজ্ঞদের কাছে পাঠানো হয়েছে। তবে এ অবস্থায় তাকে স্থানান্তর করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে বলে চিকিৎসকরা সতর্ক করেছেন।

এই ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। একজন সক্রিয় রাজনৈতিক নেতার ওপর প্রকাশ্য হামলা রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তুলছে। ওসমান হাদির সুস্থতা নিয়ে দেশবাসী উদ্বিগ্ন এবং তার দ্রুত আরোগ্য কামনা করছে।