মসজিদ মাইকেই পুলিশে হামলা ছিনতাই

যশোরের কেশবপুর উপজেলার হিজলডাঙ্গা গ্রামে মসজিদের মাইক ব্যবহার করে উসকানিমূলক ঘোষণা দিয়ে পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা চালিয়ে এক পলাতক সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা স্থানীয়ভাবে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। বুধবার রাতে সংঘটিত এ ঘটনায় তিনজন পুলিশ সদস্য আহত হন এবং আটক অবস্থায় থাকা আসামিকে জনতার ভিড়ের মধ্যে থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে বৃহস্পতিবার সকালে তাকে পুনরায় গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কেশবপুর উপজেলার হিজলডাঙ্গা গ্রামের আলিমুদ্দিনের ছেলে জাহাঙ্গীর হোসেন দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন। তার বিরুদ্ধে দুটি পৃথক মামলায় সাজা ছিল—একটি মাদক সংক্রান্ত এবং অপরটি পারিবারিক বিরোধ সংক্রান্ত মামলা। আদালতের রায়ে তার মোট দুই বছর তিন মাসের কারাদণ্ডাদেশ ছিল বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি আত্মগোপনে থাকলেও গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার রাতে তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চালানো হয়।

গ্রেফতারের মুহূর্তেই পরিস্থিতি অপ্রত্যাশিতভাবে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, জাহাঙ্গীরের দুই ভাই—আলামিন ও লিটন—মসজিদের মাইক ব্যবহার করে আশপাশের লোকজনকে দ্রুত জড়ো হওয়ার আহ্বান জানান। তারা মাইকে এমন মিথ্যা তথ্য প্রচার করেন যে, পুলিশ নাকি জাহাঙ্গীরকে ধরে নিয়ে গিয়ে হত্যা করেছে। এই বিভ্রান্তিকর ঘোষণা মুহূর্তের মধ্যেই গ্রামজুড়ে আতঙ্ক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে দেয়।

মাইকের ঘোষণার পর প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জনের একটি উত্তেজিত জনতা ঘটনাস্থলে জড়ো হয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। তারা কেশবপুর থানার তিনজন পুলিশ সদস্যকে মারধর করে গুরুতর আহত করে এবং এক পর্যায়ে আটক অবস্থায় থাকা জাহাঙ্গীর হোসেনকে ছিনিয়ে নেয়। আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন উপপরিদর্শক আসমত আলী, কনস্টেবল শহিদুল ইসলাম এবং কনস্টেবল হাবিবুল্লাহ। তাদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে পুলিশ দ্রুত অতিরিক্ত ফোর্স নিয়ে অভিযান শুরু করে। বিশেষ গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে ডুমুরিয়া উপজেলার একটি গ্রামে অভিযান চালিয়ে জাহাঙ্গীর হোসেনকে পুনরায় গ্রেফতার করা হয়। বর্তমানে তাকে আইনগত প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হয়েছে এবং নতুন করে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।

ঘটনার একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র নিচে উপস্থাপন করা হলো—

বিষয়বিবরণ
ঘটনার স্থানহিজলডাঙ্গা গ্রাম, কেশবপুর উপজেলা
ঘটনার সময়বুধবার রাত
আটক আসামিজাহাঙ্গীর হোসেন
অভিযোগদুই মামলায় সাজাপ্রাপ্ত পলাতক
উসকানিদাতাদুই ভাই (আলামিন ও লিটন)
হামলাকারীর সংখ্যাপ্রায় ৫০–৬০ জন
আহত পুলিশ সদস্য৩ জন (উপপরিদর্শক ও দুই কনস্টেবল)
পুনরায় গ্রেফতারবৃহস্পতিবার সকাল, ডুমুরিয়া উপজেলা

স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, মসজিদের মাইক ব্যবহার করে ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে জনতাকে উসকানি দেওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর হিসেবে দেখা হচ্ছে। এতে করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি ঘটে এবং রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনরত পুলিশের ওপর সরাসরি হামলার ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় এলাকায় এখনো থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।