সুনামগঞ্জের আমিরপুর গ্রামে মশার কয়েল থেকে ছড়িয়ে পড়া আগুনে ৬৮ বছর বয়সী সেলিমা খাতুনের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার, ৪ মার্চ ভোররাতে সদর উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের ওই গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। মৃতা সেলিমা খাতুন স্থানীয় নাগরিক নজরুল ইসলামের স্ত্রী। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তার দেহ উদ্ধার করেছে এবং প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশের তথ্যানুযায়ী, সেলিমা খাতুন রাতের খাবারের পর একা একটি কক্ষে বিশ্রাম নেন। তার স্বামী নজরুল ইসলাম অন্য কক্ষে ঘুমাচ্ছিলেন, আর তাদের ছোট ছেলে ভিন্ন কক্ষে ঘুমাচ্ছিল। মধ্যরাতে একটি জ্বলা মশার কয়েল থেকে ছিটকে পড়া আগুনের ধ্বংসাত্মক শিখা শয্যায় লেগে যায় এবং দ্রুত ছড়িয়ে গিয়ে সেলিমা খাতুনকে গ্রাস করে।
পড়শিরা তাকে উদ্ধার করার চেষ্টা করেন। মারফাত আলীর স্ত্রী রহেলা বেগম বলেন, “সকালের নাস্তার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম, তখন নজরুল ইসলামের বাড়ি থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখলাম। সঙ্গে সঙ্গে অন্যদের জানালাম। গ্রামবাসীরা দ্রুত সাহায্যে এলেও দুঃখজনকভাবে আমরা তাকে আগুন থেকে বাঁচাতে পারিনি। ”
নজরুল ইসলাম তার শোক প্রকাশ করে বলেন, “আমি অন্য কক্ষে ঘুমাচ্ছিলাম। আগুনের শব্দ শুনে ফিরে আসার সময় ঘরটি সম্পূর্ণ দগ্ধ ছিল। আমরা পানি ও বালু দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমার স্ত্রী আগুনে মৃত্যুবরণ করেছেন। আমার ছেলে বলেছে, আগুনটি মশার কয়েল থেকে লেগেছে। ”
সুরমা ইউনিয়ন পরিষদের ওয়ার্ড সদস্য আফসান পারভেজ নিশ্চিত করেন, “রাতের সময়ে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়েছি। দেখা যায়, নারী দগ্ধ অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে জানানো হয়েছে।”
সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ রতন সেখ বলেন, “ভোরে দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, আগুনের সূত্র মশার কয়েল। মৃতার দেহের বেশিরভাগ অংশ দগ্ধ হয়েছে। আইনের অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ ঘটনায় স্থানীয় সমাজের মধ্যে শোক ও হতাশা বিরাজ করছে। বিশেষ করে ঘরে মশার কয়েল ব্যবহারের সময় সতর্কতার প্রয়োজনীয়তা পুনরায় দৃঢ়ভাবে প্রমাণিত হলো।
ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| মৃতার নাম | সেলিমা খাতুন |
| বয়স | ৬৮ বছর |
| ঠিকানা | আমিরপুর গ্রাম, সুরমা ইউনিয়ন, সুনামগঞ্জ |
| ঘটনা তারিখ ও সময় | ৪ মার্চ, ভোর |
| আগুনের কারণ | মশার কয়েল থেকে শয্যার আগুন |
| স্বামী | নজরুল ইসলাম |
| সন্তান | ছোট ছেলে, আলাদা কক্ষে ঘুমাচ্ছিল |
| সাক্ষীর বিবৃতি | রহেলা বেগম: “গ্রামবাসীরা আগুন নেভানোর চেষ্টা করেছে কিন্তু রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।” |
| পুলিশের বক্তব্য | ওসি রতন সেখ: “আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” |
এই মর্মান্তিক ঘটনা পরিবার ও স্থানীয় সমাজের জন্য এক জাগরুকবার্তা হিসেবে কাজ করছে, যাতে ঘরে মশার কয়েল ব্যবহারের সময় বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়। ছোটখাটো অসতর্কতা জীবনের জন্য মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে।
