ময়মনসিংহ-৮ (ঈশ্বরগঞ্জ) আসনের বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য শাহ্ নূরুল কবীর শাহীন দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পর দল থেকে পদত্যাগ করেছেন। রোববার (২৮ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টায় ঈশ্বরগঞ্জ প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি বিএনপির সকল কার্যক্রম থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগের ঘোষণা দেন।
শাহীন বলেন, “আমি ছাত্রজীবনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে ফজলুল হক হলে নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে রাজনীতিতে প্রবেশ করি। এরপর ৪৩ বছর ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত রয়েছি। দীর্ঘ পথ চলায় টেলিভিশন টকশো ও বিভিন্ন মিডিয়ার মাধ্যমে দলের পক্ষে বক্তব্য দিয়েছি। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজপথে আন্দোলন, মিটিং ও মিছিল করতে গিয়ে জেল-জুলুমের শিকারও হয়েছি।”
তিনি আরও জানান, ২০০১ সালে বিএনপির মনোনয়ন পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৬ সালে মনোনয়ন পেয়েও নির্বাচন হয়নি। ২০১৪ সালে দলের নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়নি। ২০১৮ সালের নির্বাচনে প্রাথমিকভাবে দল তাকে মনোনয়ন দেয়, তবে জোটগত কারণে শেষ মুহূর্তে প্রার্থী হতে পারেননি।
শাহীন বলেন, “দলের দুর্দিনেও আমি নেতাকর্মীদের সংগঠিত করে কার্যক্রম চালিয়ে গেছি। আসন্ন নির্বাচনে দল আমাকে মনোনয়ন দেবে বলে আশা করেছিলাম। কিন্তু অনেক মনোনয়ন পরিবর্তনের মধ্যেও আমার প্রতি কোনো বিবেচনা হয়নি। তাই দলের সকল কর্মকাণ্ড ও পদ থেকে পদত্যাগ করেছি। পদত্যাগপত্র আমি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বরাবর ডাকযোগে প্রেরণ করেছি।”
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শাহীন আরও বলেন, “বিভিন্ন দল থেকে আমাকে প্রার্থী হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তবে এখনও অন্য কোনো দল থেকে নির্বাচন করবেন কি না তা ঠিক করি নি। তবে মাঠের জনমতের ভিত্তিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে হলেও নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি রয়েছে।”
নিচের টেবিলে শাহীন-এর নির্বাচনি ইতিহাস সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
| বছর | পদ/পরিস্থিতি | মন্তব্য |
|---|---|---|
| ২০০১ | বিএনপি মনোনয়নপ্রাপ্ত | সংসদ সদস্য নির্বাচিত |
| ২০০৬ | মনোনয়নপ্রাপ্ত | নির্বাচন হয়নি |
| ২০১৪ | নির্বাচন হয়নি | দল অংশগ্রহণ করেনি |
| ২০১৮ | প্রাথমিক মনোনয়ন | জোটগত কারণে প্রার্থীতা হয়নি |
শাহীন-এর পদত্যাগ বিএনপির স্থানীয় এবং কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে নতুনভাবে আলোচনার সূচনা করেছে। দীর্ঘ ৪৩ বছরের রাজনৈতিক যাত্রার পর তার পদত্যাগের সিদ্ধান্ত দলের ভবিষ্যৎ কৌশল ও মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে।
