ময়মনসিংহ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ‘ভুলবশত’ হত্যা মামলার তিন আসামিকে মুক্তি দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে, যা দেশজুড়ে জেল ব্যবস্থাপনায় ত্রুটির গুরুতর উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ঘটনার পর ময়মনসিংহ জেলা কারাগারের এক ডেপুটি জেলা কর্মকর্তা সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন এবং কারা অধিদপ্তর তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
মুক্তি পাওয়া আসামিরা হলেন:
আনিস মিয়া
রাশেদুল
মো. জাকিরুল
তারা তারাকান্দা উপজেলার একটি হত্যা মামলার আসামি ছিলেন। কারাগার সূত্র জানায়, গত মঙ্গলবার বিকেলে তারা জামিন ছাড়াই কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান। তবে এ তথ্য বাইরে আসে বৃহস্পতিবার।
ঘটনার পর প্রাথমিকভাবে দায়ী হিসেবে ডেপুটি জেলা জাকারিয়া ইমতিয়াজকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। একই দিনে ঢাকা বিভাগ-২-এর ডিআইজি প্রিজন্স টিপু সুলতানকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
মুক্তি সংক্রান্ত মূল তথ্য
| আসামির নাম | উপজেলা | মামলা প্রকার | মুক্তির তারিখ | জামিন স্ট্যাটাস | দায়ী কর্মকর্তা |
|---|---|---|---|---|---|
| আনিস মিয়া | তারাকান্দা | হত্যা | ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ | জামিন ছাড়াই | জাকারিয়া ইমতিয়াজ |
| রাশেদুল | তারাকান্দা | হত্যা | ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ | জামিন ছাড়াই | জাকারিয়া ইমতিয়াজ |
| মো. জাকিরুল | তারাকান্দা | হত্যা | ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ | জামিন ছাড়াই | জাকারিয়া ইমতিয়াজ |
ময়মনসিংহের সিনিয়র জেল সুপার আমিনুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন, “কারাগারের একজন কর্মকর্তা ভুলবশত তিন আসামিকে মুক্তি দিয়েছেন। এটি সম্পূর্ণ অনিচ্ছাকৃত ঘটেছে। আমরা এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছি।”
ময়মনসিংহ বিভাগের কারা উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি প্রিজন্স) মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম জানান, প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট (হাজিরা পরোয়ানা) ভুল করে জামিননামা ভেবে তিন আসামিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “ডেপুটি জেলার অসতর্ক অবস্থায় এ ভুল করেছেন। তবে তদন্ত কমিটি বিষয়টি খতিয়ে দেখছে এবং যাদের দায়িত্বপ্রাপ্ত থাকার প্রমাণ মিলবে, তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তদন্ত কমিটি কারাগারের অভ্যন্তরীণ নিয়মাবলী, প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট কার্যপ্রণালী, এবং কর্মকর্তাদের দায়বদ্ধতা খতিয়ে দেখবে। এছাড়া, এই ঘটনার ফলে দেশের কারা ব্যবস্থার প্রক্রিয়াগত দুর্বলতাগুলোও সামনে আসছে, যা ভবিষ্যতে একই ধরনের ভুল প্রতিরোধে ব্যবহার করা হবে।
মৌলিকভাবে, এই ঘটনা দেশের জেল ব্যবস্থার দক্ষতা ও নিয়ন্ত্রণে প্রমাণিত মানবিক ভুলের ঝুঁকি তুলে ধরেছে, যা শৃঙ্খলাবদ্ধ ও সুনির্দিষ্ট প্রশাসনিক তদারকির গুরুত্বকে আরও স্পষ্ট করছে।
