ময়মনসিংহের ত্রিশালে এক চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, যেখানে নিজের ঘনিষ্ঠ বন্ধুর হাতে প্রাণ হারিয়েছেন মালয়েশিয়া প্রবাসী তরুণ মুনতাসির ফাহিম (২২)। বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাত পৌনে ৯টার দিকে ত্রিশাল সরকারি নজরুল একাডেমি মাঠে এই ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত ঘাতক বন্ধু অহিদুল ইসলাম (২২) হত্যার পর রক্তমাখা ‘চায়নিজ কুড়াল’ হাতে নিয়ে নিজেই থানায় হাজির হয়ে ধরা দিয়েছেন। নিহত ফাহিম ত্রিশাল ইউনিয়নের চিকনা মনোহর গ্রামের বাদল মিয়ার ছেলে। অন্যদিকে, ঘাতক অহিদুল ত্রিশাল পৌরসভার দরিরামপুর গ্রামের জহিরুল ইসলামের ছেলে।
নিহত ফাহিমের পরিবার জানায়, মুনতাসির ফাহিম মালয়েশিয়ার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতেন। চার মাস আগে তিনি ছুটিতে দেশে এসেছিলেন। আগামী শনিবার তার পুনরায় মালয়েশিয়া যাওয়ার কথা ছিল এবং ২৫ ডিসেম্বর থেকে তার নতুন সেমিস্টার বা ক্লাস শুরু হওয়ার কথা ছিল। তার সমস্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছিল, কিন্তু বিদেশ যাওয়ার মাত্র দুদিন আগে বন্ধুর হাতে নির্মমভাবে প্রাণ হারালেন তিনি। ফাহিমের বাবা রেজাউল ইসলাম আহাজারি করে বলেন, “আমার ছেলে তো দেশে থাকত না, তার ওপর কিসের এত ক্ষোভ ছিল যে এভাবে তাকে মারতে হলো?”
পুলিশের বর্ণনা অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে অহিদুল ইসলাম একটি ধারালো চায়নিজ কুড়াল হাতে নিয়ে ত্রিশাল থানায় প্রবেশ করেন। সেখানে উপস্থিত কর্মকর্তাদের সামনে তিনি স্বীকারোক্তি দেন যে, ফাহিমের কারণে তার জীবন নষ্ট হয়ে গেছে, তাই তিনি তাকে হত্যা করেছেন। অহিদুলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ দ্রুত নজরুল একাডেমি স্কুল মাঠে পৌঁছায় এবং মাঠের পূর্ব পাশের পানির ট্যাংকের কাছে ফাহিমের রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে। পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।
ত্রিশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনসুর আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ফাহিম ও অহিদুল একে অপরের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। অহিদুল দাবি করেছেন যে ফাহিম তার জীবন নষ্ট করেছে, তবে জীবন কীভাবে নষ্ট হয়েছে বা হত্যার পেছনে সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ আছে কি না—তা এখনো স্পষ্ট নয়। পুলিশ অভিযুক্তকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে এবং কেন এই নির্মম হত্যাকাণ্ড ঘটানো হলো তা উদ্ঘাটনের চেষ্টা চালাচ্ছে। এই ঘটনায় ত্রিশাল এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও শোকের সৃষ্টি হয়েছে।
জিলাইভ/টিএসএন
