ময়মনসিংহে আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে হামলা ও অগ্নিসংযোগ

ময়মনসিংহের শিববাড়ি রোডে সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি, স্থানীয় সময় দুপুরে জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে তাণ্ডব চালানো ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। জানা গেছে, বিরোধী ছাত্র সংগঠন “বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন”-এর কর্মীরা অফিসের সামনে টায়ার জ্বালিয়ে ভবনের অভ্যন্তর ও বহিরঙ্গন অংশে ব্যাপক ক্ষতি করেছে।

ঘটনার পটভূমি

জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয় গত বছরের ৫ আগস্ট থেকে বন্ধ ছিল। তবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর, ১২ ফেব্রুয়ারি, কার্যালয়টি পুনরায় চালুর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল। ২১ ফেব্রুয়ারি, কজি আজাদ জাহান শামীম নেতৃত্বে একদল আওয়ামী লীগ নেতা কার্যালয়ের সামনে দলীয় পতাকা উত্তোলন এবং ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। ছাত্র আন্দোলনের সদস্যরা এটিকে রাজনৈতিক উদ্দীপনা হিসেবে দেখছেন এবং এই ঘটনা হামলার মূল প্ররোচক হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী আল-নুর আয়াস বলেন:
“আওয়ামী লীগ একটি নিষিদ্ধ সংগঠন। তারা শহীদ সাগরসহ হাজার হাজার শিক্ষার্থী ও নাগরিক হত্যা মামলার সঙ্গে জড়িত। বর্তমানে তাদের বিচার চলছে। সম্প্রতি তারা আবার কার্যক্রম শুরু করার চেষ্টা করছে। আমরা রক্তে ভেজা এই অফিস তাদের জন্য অনুমোদন দেব না। প্রয়োজনে আমরা এটি জনসাধারণের জন্য টয়লেটে রূপান্তর করব।”

ভূমি ও নির্মাণ সংক্রান্ত বিতর্ক

সূত্র অনুযায়ী, জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়টি এমন একটি জমিতে নির্মিত, যা অন্যদের থেকে জবরদস্তি করে নেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ আছে। জমি সংক্রান্ত আইনগত মামলা থাকলেও, রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে সম্পত্তি এখনও দলের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

পুলিশি প্রতিক্রিয়া

কোতোয়ালি মডেল থানা অফিসার ইন-চার্জ মোঃ নাজমুস সাকিব নিশ্চিত করেছেন, খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অগ্নিসংযোগ বন্ধ করেছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। প্রাথমিক প্রচেষ্টা এলাকা থেকে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়া রোধ করতে সক্ষম হয়েছে।

ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ

তারিখ ও সময়স্থানঘটনার ধরনঅফিসার ইন-চার্জক্ষয়ক্ষতির বিবরণ
২৩ ফেব্রুয়ারি, দুপুরশিববাড়ি রোড, ময়মনসিংহভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগমোঃ নাজমুস সাকিবঅভ্যন্তরীণ দেয়াল ক্ষতিগ্রস্ত; বাইরে টায়ার জ্বালানো হয়েছে

প্রাসঙ্গিকতা ও বিশ্লেষণ

ময়মনসিংহে রাজনৈতিক সংঘর্ষ নতুন নয়। এই হামলা স্থানীয় রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা এবং ছাত্র নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের সক্রিয়তা উভয়কেই প্রতিফলিত করে। যদিও পরিস্থিতি এখন স্থিতিশীল, প্রশাসন অতিরিক্ত সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। এই ঘটনা রাজনৈতিক সংবেদনশীল স্থানের নিরাপত্তা সংকট এবং রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের মধ্যে চলমান উত্তেজনার চিত্র স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।

এই ঘটনার মাধ্যমে ময়মনসিংহে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তার মধ্যে সঙ্কটের সম্ভাবনা আরও জোরালোভাবে প্রমাণিত হলো।