যশোরের মনিরামপুরে স্থানীয় বিরোধ মেটানোর চেষ্টা করতে গিয়ে চালুয়াহাটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল হাই (৫০) শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে প্রাণ হারিয়েছেন। তিনি উপজেলার রতনদিয়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নেংগুড়াহাট বাজারে আবুল খায়ের, মোস্তাক ও বিল্লাল নামের তিন ব্যক্তি পুরনো আর্থিক বিষয় নিয়ে তর্কে জড়ায়। পরিস্থিতি লক্ষ্য করে সেখানে পৌঁছান আব্দুল হাই এবং তিনি বিরোধ থামানোর চেষ্টা করেন। এই সময় ধাক্কা খেয়ে তিনি মাটিতে পড়ে যান। গুরুতর অবস্থায় তাঁকে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলে পথে তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহতের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে বিভিন্ন মত প্রকাশ করা হয়েছে। কিছু সূত্র দাবি করেছে, বিরোধ থামানোর সময় বুকে আঘাত পেয়ে তিনি পড়ে যান। অন্যদিকে, চালুয়াহাটি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি কামরুজ্জামান শাহিন জানিয়েছেন, “আব্দুল হাই পূর্বে স্ট্রোকের রোগী ছিলেন। ধাক্কা খেয়ে পড়ে যাওয়ার পর পুনরায় স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।”
স্থানীয়রা জানান, আবুল খায়েকে ধাওয়া দিয়ে বাজারের একটি ঘরে আটক করা হয়। পরে পুলিশ এসে তাঁকে হেফাজতে নেন। মনিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রজিউল্লাহ খান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। আবুল খায়েকে পুলিশ হেফাজতে নিয়েছে।”
নিহতের পরিচয় ও ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিচের টেবিলে দেওয়া হলো:
| নাম | বয়স | পদবি | গ্রামের নাম | মৃত্যুর সময় | সংঘর্ষে জড়িত ব্যক্তি | পুলিশি ব্যবস্থা |
|---|---|---|---|---|---|---|
| আব্দুল হাই | ৫০ | যুগ্ম আহ্বায়ক, চালুয়াহাটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ | রতনদিয়া | শনিবার সন্ধ্যা ৭:৩০ | আবুল খায়ের, মোস্তাক, বিল্লাল | আবুল খায়েকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে |
ঘটনার পর বাজারে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লেও স্থানীয়রা ও পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার ফলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
এই ঘটনায় পুনরায় প্রমাণিত হলো যে, স্থানীয় বিরোধ সমাধানের সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্ব অপরিসীম। রাজনৈতিক নেতাদের দায়িত্বশীল ভূমিকা এবং বাজার এলাকায় সংঘর্ষ রোধের ব্যবস্থা নিতেও আরও মনোযোগী হতে হবে।
স্থানীয় প্রশাসন এবং জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে সামান্য বিরোধও বড় অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনায় রূপ না নেয়। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পরেই মৃত্যুর চূড়ান্ত কারণ জানা যাবে।
এই ঘটনায় মনিরামপুরের স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতার প্রতি সতর্ক দৃষ্টিভঙ্গি আরও জোরালো হয়েছে।
