কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলায় বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় সময় রাত ৩টার দিকে বালুখালীস্থ ক্যাম্প-১১-এ হঠাৎ আগুন লেগে ছয়টি ইউনিটের বসতি এবং একটি এনজিও অফিস পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এই অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ২৫টি বসতি ধ্বংস হয়েছে এবং মানুষের মৌলিক জীবনযাত্রার সরঞ্জাম ও ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মো. মোরশেদ হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, উখিয়া থেকে তিনটি ফায়ার ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এরপর কক্সবাজার ও রামু থেকে আরও তিনটি ইউনিট যোগ দিলে মোট ছয়টি ইউনিট দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তিনি বলেন, “আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি তৎপরতার সঙ্গে সামলানো হয়েছে। তবে পুরোপুরি ক্ষয়ক্ষতির হিসাব এখনও করা হয়নি।”
সিনিয়র স্টেশন কর্মকর্তা দোলন আচার্য্য প্রাথমিকভাবে জানিয়েছেন, আগুনের সূত্রপাত সম্ভবত বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে। তবে তা নিশ্চিত হওয়া এখনও বাকি। তিনি আরও বলেন, “দূর্ঘটনার সময় কোনো প্রাণহানি বা গুরুতর আহতের খবর পাওয়া যায়নি, যা বড় ধরণের সান্ত্বনার বিষয়।”
এই অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত বসতিগুলোর মধ্যে রয়েছে ফ্ল্যাশড ও অস্থায়ী ঘরবাড়ি, যা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রাথমিক আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ক্যাম্পে থাকা শিশু, মহিলারা এবং বৃদ্ধদের জন্য জরুরি সহায়তার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ক্ষয়ক্ষতি ও আগুন নিয়ন্ত্রণে ইউনিট সংখ্যা
| বিষয় | পরিমাণ/বিবরণ |
|---|---|
| ক্ষতিগ্রস্ত বসতি | ২৫টি |
| ক্ষতিগ্রস্ত এনজিও অফিস | ১টি |
| আগুন নেভাতে অংশ নেওয়া ইউনিট | ৬টি (উখিয়া-৩, কক্সবাজার-১, রামু-২) |
| আগুন নিয়ন্ত্রণে সময় | প্রায় ২ ঘণ্টা |
| সম্ভাব্য আগুনের কারণ | বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট |
| প্রাণহানি/আহত | নেই (প্রাথমিকভাবে) |
ক্যাম্পের স্থানীয় নেতা ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য জরুরি ত্রাণ, খাদ্য ও চিকিৎসা সামগ্রী প্রেরণ শুরু করেছেন। এছাড়া প্রশাসন আগুনের প্রকৃত কারণ নির্ণয় এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
উখিয়া এলাকার এই অগ্নিকাণ্ড রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জীবনযাত্রার দুর্দশা আরও বাড়িয়েছে। শীত ও অসুরক্ষিত আবাসনের মধ্যে রাতের অগ্নিকাণ্ড তাদের নিরাপত্তা ও জীবিকায় নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
