ইসলাম মানুষের জীবনকে প্রতিটি ক্ষেত্রে সুসমঞ্জস্য ও ভারসাম্যপূর্ণভাবে পরিচালনার নির্দেশ দেয়। ইবাদত, সমাজনীতি, অর্থনীতি, যুদ্ধ-শান্তি—সবক্ষেত্রেই ভারসাম্যবোধকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এই ভারসাম্যপূর্ণ পথই শরিয়তের একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য।
শরিয়তের মধ্যমপন্থাকে ‘সিরাতুল মুস্তাকিম’ বলা হয়—সহজ, সরল ও সঠিক পথ, যা কোনো প্রান্ত বা অতিরিক্ততার দিকে এগোয় না। আল্লাহ কোরআন মাজিদে মুসলমানদের ‘উম্মাতান ওয়াসাতান’ বা মধ্যপন্থী উম্মত হিসেবে বর্ণনা করেছেন। (সুরা আল বাকারা, আয়াত ১৪৩)
ইসলাম কোনো ক্ষেত্রে অতিরিক্ততার অনুমতি দেয় না। ঈমান-আকিদা থেকে শুরু করে সমাজ, পরিবার, রাজনীতি ও অর্থনীতি—সবক্ষেত্রেই ভারসাম্য রক্ষা করতে বলা হয়েছে। অতিরিক্ত আচরণের ফলে অনেক জাতি ধ্বংস হয়েছে, যেমন ইহুদি ও নাসারাদের উদাহরণ। নবীজি (সা.) কবরপূজার প্রতি সতর্ক করেছেন এবং বলেছেন, নবীদের কবরকে সিজদার জায়গা বানানো যাবে না। (ইমাম মুসলিম, হাদিস ৫৩২)
ইবাদতেও ইসলাম পরিমিতিকে উৎসাহ দেয়। নবীজি (সা.) বলেছেন, “দ্বিন খুব সহজ। যে-ই দ্বিনকে কঠোর করবে সে পরাজিত হবে।” (ইমাম বুখারি, হাদিস ৩৯) কোরআনেও বলা হয়েছে, “তোমরা তোমাদের দ্বিনের বিষয়ে বাড়াবাড়ি কোরো না।” (সুরা আল মায়িদা, আয়াত ৭৭)
নবী (সা.) নিজের ইবাদতের ধরনও মধ্যমপন্থায় পালন করেছেন। তিনি নফল নামাজ পড়তেন, বিশ্রাম নিতেন, রোজা রাখতেন বা বিরতি দিতেন, স্ত্রীগমনও করতেন। সাহাবিরা অতিরিক্ত ইবাদতের প্রতি অনুরাগী হলেও নবী (সা.) বলেছেন, তার সুন্নাহ অনুসরণ করতে না চাইলে সে তার দলের নয়। (ইমাম বুখারি, হাদিস ৪৭৭৬; ইমাম মুসলিম, হাদিস ১৪০১)
এই ভারসাম্যপূর্ণ পরিমিতি ইসলামের সৌন্দর্য ও সঠিক পথের প্রতীক। আকিদা ও বিধি-বিধানের প্রতিটি ক্ষেত্রে মধ্যমপন্থা রক্ষা করা মুসলমানদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
জিলাইভ/টিএসএন
