মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও আকাশপথে নিরাপত্তা ঝুঁকি বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স আগামী ৮ মার্চ পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যগামী তাদের সব ফ্লাইট বাতিল ঘোষণা করেছে। শুক্রবার (৬ মার্চ) দুপুরে সংস্থাটির পক্ষ থেকে ট্রাভেল এজেন্সিগুলোকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়। এর আগে ৩ থেকে ৫ মার্চ পর্যন্ত এসব রুটে ফ্লাইট স্থগিত ছিল। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সেই সময়সীমা বাড়িয়ে ৮ মার্চ পর্যন্ত করা হয়েছে।
বিমানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের একাধিক দেশ তাদের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করায় আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল ব্যাহত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে যাত্রীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ফ্লাইট বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই, আবুধাবি ও শারজা; সৌদি আরবের দাম্মাম; কাতারের দোহা এবং কুয়েতগামী রুট। মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি প্রবাসীর কারণে এসব রুটকে বিমানের অন্যতম ব্যস্ত আন্তর্জাতিক গন্তব্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ফলে এই সিদ্ধান্তের কারণে বহু যাত্রীর ভ্রমণ পরিকল্পনায় সাময়িক পরিবর্তন এসেছে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি বিকেল থেকে ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান তাদের আকাশসীমা আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ ঘোষণা করে। আঞ্চলিক সংঘাতের আশঙ্কা ও সম্ভাব্য সামরিক কার্যক্রমের কারণে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের ওপর দিয়ে পরিচালিত আন্তর্জাতিক আকাশপথগুলোতে ব্যাপক বিঘ্ন সৃষ্টি হয়।
এই পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়ে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। আকাশসীমা বন্ধ থাকার কারণে অনেক আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সকে তাদের ফ্লাইট বাতিল বা রুট পরিবর্তন করতে হয়েছে। ফলে সামগ্রিকভাবে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট সূচিতে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলমান সংকটের প্রভাবে ঢাকা থেকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গন্তব্যে পরিচালিত মোট ২৪৫টি ফ্লাইট শুক্রবার পর্যন্ত বাতিল হয়েছে। এর মধ্যে রাষ্ট্রীয় সংস্থা ছাড়াও বিভিন্ন বিদেশি এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
নিচে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত কয়েকটি গন্তব্যের সংক্ষিপ্ত তালিকা দেওয়া হলো—
| গন্তব্য শহর | দেশ | অবস্থা |
|---|---|---|
| দুবাই | সংযুক্ত আরব আমিরাত | ফ্লাইট বাতিল |
| আবুধাবি | সংযুক্ত আরব আমিরাত | ফ্লাইট বাতিল |
| শারজা | সংযুক্ত আরব আমিরাত | ফ্লাইট বাতিল |
| দাম্মাম | সৌদি আরব | ফ্লাইট বাতিল |
| দোহা | কাতার | ফ্লাইট বাতিল |
| কুয়েত সিটি | কুয়েত | ফ্লাইট বাতিল |
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি উন্নত হলে এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলো তাদের আকাশসীমা পুনরায় খুলে দিলে ফ্লাইট পরিচালনা ধীরে ধীরে স্বাভাবিক করা হবে। বাতিল হওয়া ফ্লাইটের যাত্রীদের নতুন সময়সূচি সম্পর্কে দ্রুত অবহিত করা হবে বলেও আশ্বাস দিয়েছে সংস্থাটি।
এদিকে যাত্রীদের নিয়মিতভাবে বিমানের কল সেন্টার, ট্রাভেল এজেন্ট বা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত আন্তর্জাতিক আকাশপথে অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকতে পারে বলেও সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।
