মধ্যপ্রাচ্যের চলমান নিরাপত্তা সংকটের কারণে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) মোট ২৮টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) জানায়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান তাদের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে। এতে ঢাকা থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন গন্তব্যের বিমান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
বেবিচক সূত্রে জানা গেছে, সংঘাত পরিস্থিতির কারণে গত কয়েক দিনে ঢাকা থেকে হাজারেরও বেশি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। বাতিল ফ্লাইটের সংখ্যা নিম্নরূপ:
| তারিখ | বাতিল ফ্লাইটের সংখ্যা |
|---|---|
| ২৮ ফেব্রুয়ারি | ২৩ |
| ১ মার্চ | ৪০ |
| ২ মার্চ | ৪৬ |
| ৩ মার্চ | ৩৯ |
| ৪ মার্চ | ২৮ |
| ৫ মার্চ | ৩৬ |
| ৬ মার্চ | ৩৪ |
| ৭ মার্চ | ২৮ |
| ৮ মার্চ | ২৮ |
| ৯ মার্চ | ৩৩ |
| ১০ মার্চ | ৩২ |
| ১১ মার্চ | ২৭ |
| ১২ মার্চ | ২৮ |
| মোট | ৪২৩ |
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে রয়েছে– কুয়েতে ৪টি, এয়ার অ্যারাবিয়া (শারজাহ, সংযুক্ত আরব আমিরাত) ৪টি, গালফ এয়ার (বাহরাইন) ২টি, কাতার এয়ারওয়েজ ৪টি, এমিরেটস এয়ারলাইনস ৪টি, জাজিরা (কুয়েত) ৪টি, ফ্লাইদুবাই ২টি এবং ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স ৪টি।
ফ্লাইট বাতিলের এই ধারা অব্যাহত থাকায় যাত্রীরা বেশ চাপের মুখে পড়েছেন। বিমান সংস্থাগুলি যাত্রীদের বিকল্প ব্যবস্থা ও রিফান্ডের সুযোগ দিয়ে সাহায্য করছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান রাজনৈতিক উত্তেজনা ও নিরাপত্তা ঝুঁকি দূর না হওয়া পর্যন্ত ফ্লাইট চালু হওয়া কঠিন।
ঢাকা থেকে মধ্যপ্রাচ্যে যাতায়াতের জন্য যাত্রীদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, তারা তাদের ফ্লাইটের বর্তমান অবস্থা আগে থেকে যাচাই করবেন এবং প্রয়োজনে ভ্রমণ পরিকল্পনা পুনর্বিন্যাস করবেন। এছাড়া বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষও পর্যাপ্ত সেবা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রতি গুরুত্ব আরোপ করছে যাতে যাত্রীরা কোনো ধরনের সমস্যায় না পড়েন।
মোটামুটি, গত ২ সপ্তাহে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক ফ্লাইট বাতিলের কারণে বিমানযাত্রীরা উদ্বিগ্ন হলেও বিমান কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি মোকাবেলায় সচেষ্ট। পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে ধীরে ধীরে ফ্লাইট পুনরায় চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
