মধ্যপ্রাচ্যে জাহাজে ১৩টি হামলার ঘটনা

ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যকার সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে মোট ১৩টি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও)। সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, এই ঘটনার পাশাপাশি আরও চারটি সন্দেহজনক maritime কর্মকাণ্ড নজরে এসেছে। ফলে, আরব সাগর, হরমুজ প্রণালী ও ওমান উপসাগরে মোট ১৭টি ঘটনার তথ্য সংরক্ষণ করা হয়েছে।

ইউকেএমটিও বুধবার সকালে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ওই অঞ্চলে তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজ ‘অজ্ঞাত বস্তুর আঘাতে’ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে ওমান উপকূলের উত্তরে হামলার শিকার একটি জাহাজের ক্রু নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বাধ্য হয়েছে। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, হামলার প্যাটার্ন থেকে বোঝা যায় যে এটি যৌথ হামলার সঙ্গে সম্পর্কিত এবং এটি বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি।

উল্লেখ্য, এই অঞ্চলে জাহাজ চলাচল আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও তেলের রফতানির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সম্প্রতি হামলার পর জাহাজ মালিক এবং ক্রুদের মধ্যে উদ্বেগ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের হামলা শিপিং রুটে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তাকে বিপন্ন করতে পারে, যা বৈশ্বিক বাজারেও প্রভাব ফেলতে পারে।

নিম্নে সম্প্রতি হামলার তথ্য সংক্ষেপে টেবিল আকারে দেওয়া হলো:

তারিখস্থানহামলার ধরনক্ষতিগ্রস্ত জাহাজ সংখ্যানোটস
২০২৬-০৩-০৯ওমান উপকূল উত্তরেঅজ্ঞাত বস্তুর আঘাতক্রু নিরাপদে সরানো হয়েছে
২০২৬-০৩-০৮হরমুজ প্রণালীআগ্নেয়াস্ত্র ও প্রজেক্টাইলসাময়িক ক্ষয়ক্ষতি
২০২৬-০৩-০৭আরব সাগরসন্দেহজনক কর্মকাণ্ডতদন্ত চলছে

ইউকেএমটিও আরও সতর্ক করেছে যে, এই ধরনের হামলার পুনরাবৃত্তি সম্ভব এবং জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা বজায় রাখতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উত্তর-পূর্ব আরব সাগর ও হরমুজ প্রণালী বর্তমানে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এই হামলার ফলে আন্তর্জাতিক শিপিং সংস্থাগুলোকে তাদের রুট, নিরাপত্তা প্রটোকল ও ক্রু প্রশিক্ষণ পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করা হয়েছে। এছাড়া, বিভিন্ন দেশকে নৌপথ নিরাপত্তা বাড়াতে যৌথ প্রচেষ্টা চালাতে হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

মোট কথায়, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের তীব্রতার কারণে বাণিজ্যিক জাহাজ ও ক্রুদের ওপর ঝুঁকি বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সমুদ্রপথে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকে অস্থির করতে পারে।