বলিউডের স্থায়ী দম্পতিদের মধ্যে কাজল ও অজয় দেবগণ-এর নাম বিশেষভাবে আলোচিত। দীর্ঘ বছর ধরে তাদের দাম্পত্য জীবন যেমন প্রশংসিত, তেমনি তাদের প্রেমকাহিনীও সমান আকর্ষণীয়। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে অভিনেত্রী কাজলের মা তনুজা স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে জানান, প্রেমে পড়ার পর কাজল প্রথমই তার কাছে সেই খুশির কথা জানায়। হঠাৎ করেই কাজল মাকে বলেন,“মা, আমি প্রেমে পড়েছি।”
স্বাভাবিকভাবে তনুজার কৌতূহল জেগে ওঠে—কার প্রেমে? কাজল তখন রহস্যময়ভাবে জবাব দেন,
“তুমি শুধু ওর চোখটা দেখলেই বুঝতে পারবে…”
কিছুটা বিরক্ত হয়ে তনুজা পুনরায় জিজ্ঞেস করেন, “কার চোখ?”
তখন কাজল অবশেষে নাম প্রকাশ করেন—“ওর নাম অজয়… অজয় দেবগণ।”
তনুজা শোনার পর চমকিত হলেও চিনতে ভুল করেননি। তিনি জানান, অজয় হলেন বিখ্যাত অ্যাকশন পরিচালক ও অভিনেতা বীরু দেবগণ-এর ছেলে। তনুজা আরও যোগ করেন, বাবা যেমন প্রতিভাবান ও সুদর্শন, ছেলে তেমনই, বরং আরও আকর্ষণীয়।
কাজল নিজেও জানিয়েছেন, একটি সিনেমার শুটিং সেটেই প্রথম তাদের পরিচয়। সেই পরিচয় থেকে গড়ে ওঠে বন্ধুত্ব, আর বন্ধুত্ব থেকে জন্ম নেয় ভালোবাসা। তাদের সম্পর্কের মূল ভিত্তি ছিল বন্ধুত্ব—যা আজও অটুট।
বিয়ের প্রসঙ্গে কাজল বলেন, “প্রতিটি সম্পর্কেই ওঠানামা থাকে। তবে একজন সত্যিকারের সঙ্গী আপনাকে নতুনভাবে নিজেকে চিনতে শেখায়, সমৃদ্ধ করে এবং জীবনে প্রেরণা যোগায়।”
অন্যদিকে অজয় দেবগণের ব্যক্তিগত জীবনের একটি মজার তথ্যও রয়েছে। তার জন্মনাম ছিল বিশাল দেবগণ, তবে একই সময়ে বলিউডে আরেক বিশাল অভিনয়ে আসায় তিনি নিজের নাম পরিবর্তন করে অজয় রাখেন। ২০০৯ সালে নিজের পদবির বানানেও সামান্য পরিবর্তন আনা হয়।
একটি মধুর স্মৃতি জড়িয়ে আছে তাদের বিয়ের সঙ্গে। বইপ্রেমী কাজল বিয়ের আগে একটি শর্ত দিয়েছিলেন—বাড়িতে অবশ্যই একটি লাইব্রেরি থাকবে। অজয় সেই শর্ত পূরণ করেন এবং মধুচন্দ্রিমার উপহার হিসেবে সেই স্বপ্নের লাইব্রেরি উপহার দেন।
কাজল-অজয়ের সম্পর্কের সংক্ষিপ্ত তথ্য
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| পরিচয় | কাজল ও অজয় দেবগণ |
| প্রথম সাক্ষাৎ | সিনেমা শুটিং সেট |
| বন্ধুত্ব থেকে প্রেম | হ্যাঁ |
| বিয়ের শর্ত | বাড়িতে লাইব্রেরি |
| মধুচন্দ্রিমার উপহার | স্বপ্নের লাইব্রেরি |
| অজয়ের জন্মনাম | বিশাল দেবগণ |
| নাম পরিবর্তনের কারণ | অন্য “বিশাল” অভিনয় করা |
| নাম পরিবর্তনের সময় | সিনেমা মুক্তির আগে, ২০০৯ সালে বানান পরিবর্তন |
সব মিলিয়ে, তাদের সম্পর্কের শুরু যেমন সরল ও আন্তরিক ছিল, তেমনি সময়ের সঙ্গে তা আরও গভীর, পরিণত ও অনুপ্রেরণাদায়ক হয়ে উঠেছে। বন্ধুত্ব, সম্মান, ও একে অপরের প্রতি প্রগাঢ় ভালোবাসা তাদের জীবন ও দাম্পত্যকে বিশেষত্ব দিয়েছে।
