মঈন আলীর অভিষেক, নাসুমের রেকর্ড বোলিং

‘দুলাভাই আচ্ছইন, এখন মাঠ কাপবো…’—ফেসবুকে এমন মজার ও আবেগী পোস্ট দিয়েই ইংল্যান্ডের তারকা অলরাউন্ডার মঈন আলীকে বরণ করে নিয়েছিল সিলেট টাইটানস। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত স্ত্রী হওয়ায় সিলেটের সঙ্গে পারিবারিক বন্ধন আছে মঈনের। সেই সূত্রেই বিপিএলের মঞ্চে তিনি হয়ে উঠেছেন সিলেটের আপন ‘দুলাভাই’। তবে প্রত্যাশিত ঝলক ব্যাটে কিংবা বলে না দেখালেও, মঈনের প্রথম ম্যাচটি স্মরণীয় করে রাখলেন সিলেটেরই সন্তান নাসুম আহমেদ।

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে নাসুমের ভয়ংকর বাঁহাতি স্পিনে বিধ্বস্ত হয়ে নোয়াখালী এক্সপ্রেস মাত্র ৬১ রানেই অলআউট হয়ে যায়—যা বিপিএল ইতিহাসের চতুর্থ সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহ। এই অনন্য কীর্তির নায়ক নাসুম, যিনি ৪ ওভারে মাত্র ৭ রান দিয়ে শিকার করেন ৫টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট।

নোয়াখালীর শুরুটা মোটেও খারাপ ছিল না। প্রথম ৩ ওভারে কোনো উইকেট না হারিয়ে তারা তোলে ২৪ রান। কিন্তু চতুর্থ ওভারে আক্রমণে এসে নাসুম ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন। নিজের প্রথম বলেই সৌম্য সরকারকে ফেরান তিনি। একই ওভারে বিদায় নেন মুনিম শাহরিয়ারও। এরপর পাওয়ার প্লে জুড়ে নাসুমের কিপটে বোলিংয়ে দিশেহারা হয়ে পড়ে নোয়াখালী।

১১তম ওভারে ফিরে এসে নাসুম এলবিডব্লুর ফাঁদে ফেলেন হায়দার আলীকে। শেষ ওভারে এসে তাঁর বোলিং পূর্ণতা পায় আরও নাটকীয়ভাবে—টানা দুই বলে মেহেদী হাসান ও জাহির খানকে ফেরানোর পর শেষ বলে বিলাল সামিকে আউট করে পূর্ণ করেন নিজের প্রথম পাঁচ উইকেটের মাইলফলক।

নাসুম আহমেদের রেকর্ড বোলিং ফিগার

বিষয়তথ্য
ওভার
রান
উইকেট
বিপিএলে স্পিনারদের সেরা
টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে প্রথম ৫ উইকেট

এর আগে ২০১৭ সালে সাকিব আল হাসান ১৬ রানে ৫ উইকেট নিয়ে স্পিনারদের মধ্যে সেরা ছিলেন। সেই রেকর্ড আজ ভেঙেছেন নাসুম। যদিও সব মিলিয়ে বিপিএলের সেরা বোলিং ফিগার এখনও তাসকিন আহমেদের (৭/১৯) দখলেই।

৬২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে সিলেট টাইটানস মাত্র ৮.৪ ওভারেই জয় নিশ্চিত করে। ৩ উইকেট হারালেও ম্যাচটি ছিল পুরোপুরি একতরফা। ১৮ বলে ৩২ রান করে সর্বোচ্চ স্কোরার হন তৌফিক খান তুষার। মঈন আলী বল হাতে ২ ওভারে ৬ রান দিয়ে উইকেট না পেলেও ব্যাট হাতে ১ বলে ১ রান করে অপরাজিত থাকেন।

এই জয়ে ৬ ম্যাচে তৃতীয় জয় পেল সিলেট টাইটানস। বিপরীতে, নোয়াখালী এক্সপ্রেস ৪ ম্যাচে এখনও জয়হীন। তবে ম্যাচটির আসল গল্প হয়ে থাকবেন নাসুম আহমেদ—যিনি নিজের দিনে শুধু ম্যাচই জেতাননি, জায়গা করে নিয়েছেন বিপিএল ইতিহাসেও।