মেস্তায়ায় কঠিন পরীক্ষায় উতরে গিয়ে ২০২৬ লা লিগায় নিজেদের শতভাগ জয়ের ধারা বজায় রাখল রিয়াল মাদ্রিদ। ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি কাগজে-কলমে সহজ মনে হলেও বাস্তবে ছিল ভীষণ লড়াইপূর্ণ। আক্রমণে ধার কম, মাঝমাঠে গতি কম—সব মিলিয়ে খুব একটা ঝলমলে পারফরম্যান্স না হলেও শেষ পর্যন্ত কার্যকর ফুটবলের জোরে তিন পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ে কার্লো আনচেলত্তির দল। এই জয়ে লিগ তালিকায় বার্সেলোনার খুব কাছেই চলে এসেছে লস ব্লাঙ্কোস।
নিষেধাজ্ঞার কারণে ভিনিসিয়াস জুনিয়রকে না পেয়ে এবং চোটের কারণে রদ্রিগো গোয়েস ছিটকে যাওয়ায় কোচ আলভারো আরবেলোয়া এ ম্যাচে ৪-৪-২ ফরমেশন বেছে নেন। আক্রমণে একসঙ্গে খেলেন কিলিয়ান এমবাপ্পে ও তরুণ গঞ্জালো গার্সিয়া। তবে প্রথমার্ধে এই জুটি প্রত্যাশামতো প্রভাব ফেলতে পারেননি। বল দখলে রিয়াল এগিয়ে থাকলেও পরিষ্কার সুযোগ তৈরি ছিল হাতে গোনা।
প্রথম ৪৫ মিনিটে ম্যাচের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য মুহূর্ত আসে ডান প্রান্ত থেকে। রাইট-ব্যাক ডেভিড হিমেনেজ—যার এটি ছিল লা লিগায় অভিষেক—ডান দিক দিয়ে উঠে এসে জোরালো শট নেন। ভ্যালেন্সিয়া গোলরক্ষক স্তোল দিমিত্রিয়েভস্কি দারুণ রিফ্লেক্সে বল ঠেকিয়ে দেন। এই সেভই প্রথমার্ধে তাকে বড় পরীক্ষায় ফেলেছিল; এর বাইরে রিয়ালের আক্রমণ খুব একটা ভয়ের কারণ হয়ে উঠতে পারেনি।
দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের গতি বাড়ে। ৬৫ মিনিটে অবশেষে কাঙ্ক্ষিত লিড পায় রিয়াল মাদ্রিদ। আলভারো কারেরাস বাঁ দিক থেকে বল নিয়ে দুই ভ্যালেন্সিয়া ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বক্সে ঢুকে কাছের পোস্ট দিয়ে নিখুঁত শটে জাল খুঁজে নেন। গোলটি রিয়াল শিবিরে স্বস্তি ফিরিয়ে আনে এবং ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
গোল হজমের পরপরই সমতায় ফেরার সুবর্ণ সুযোগ পায় স্বাগতিক ভ্যালেন্সিয়া। লুকাস বেলত্রানের জোরালো শট পোস্টে লেগে বাইরে চলে যায়। এটিই ছিল তাদের সবচেয়ে কাছাকাছি প্রচেষ্টা। এই সুযোগ মিস করার পর আর ম্যাচে ফিরে আসতে পারেনি তারা; রিয়ালের রক্ষণ তখন আরও সংগঠিত হয়ে ওঠে।
স্টপেজ টাইমের প্রথম মিনিটে ম্যাচ নিশ্চিত করে রিয়াল মাদ্রিদ। বদলি হিসেবে নামা ব্রাহিম দিয়াসের精准 পাস থেকে কিলিয়ান এমবাপ্পে ঠান্ডা মাথায় গোল করেন। পুরো ম্যাচে খুব বেশি আলো ছড়াতে না পারলেও গুরুত্বপূর্ণ সময়ে স্কোরশিটে নাম লেখান ফরাসি তারকা।
সামগ্রিকভাবে এটি রিয়াল মাদ্রিদের খুব উজ্জ্বল পারফরম্যান্স ছিল না। তবে শিরোপার দৌড়ে এমন ম্যাচেই জয় তুলে নেওয়াটা বড় দলের পরিচয়। এই জয়ে তারা লিগ তালিকায় বার্সেলোনার থেকে মাত্র এক পয়েন্টের ব্যবধানে চলে এসেছে। আগামী সপ্তাহে ফর্মে থাকা রিয়াল সোসিয়েদাদের বিপক্ষে জিততে পারলে সাময়িকভাবে শীর্ষেও ওঠার সুযোগ থাকবে তাদের। অন্যদিকে, বার্সেলোনা সোমবার রাতে জিরোনার মুখোমুখি হবে—যে ম্যাচের ফলাফলের দিকেই তাকিয়ে থাকবে মাদ্রিদ শিবির।
ম্যাচের সংক্ষিপ্ত পরিসংখ্যান
| বিষয় | ভ্যালেন্সিয়া | রিয়াল মাদ্রিদ |
|---|---|---|
| গোল | ০ | ২ |
| বল দখল (%) | ৪৬ | ৫৪ |
| শট (টার্গেটে) | ৯ (২) | ১১ (৪) |
| কর্নার | ৪ | ৫ |
| ফাউল | ১৩ | ১১ |
এই জয় শুধু তিন পয়েন্টই নয়, বরং শিরোপা লড়াইয়ে রিয়ালের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দিল।
