সালাদ, নুডলস বা চায়নিজ খাবারের সঙ্গে ক্যাপসিকাম এখন বাংলাদেশে অন্যতম জনপ্রিয় সবজি। দেশীয় সবজির পাশাপাশি বিদেশি ক্যাপসিকামের চাহিদাও বৃদ্ধি পাওয়ায় উৎপাদন ও বিক্রি গত চার বছরে নাটকীয়ভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে দ্বীপ জেলা ভোলার চরাঞ্চলে এ সবজির উৎপাদন তুঙ্গে পৌঁছেছে।
ভোলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. খায়রুল ইসলাম মল্লিক জানিয়েছেন, চরের মাটিতে প্রাকৃতিক পলির স্তর থাকায় ক্যাপসিকামের চাষের ফলন ভালো হয়। কৃষকেরাও প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি প্রয়োগ করছেন। “উৎপাদনের সঙ্গে সঙ্গে বাজারে চাহিদা থাকায় বিক্রি ঝামেলামুক্ত, আর দামও ভালো হওয়ায় কৃষকের আগ্রহ বাড়ছে,” তিনি বলেন।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্যমতে, দেশে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ক্যাপসিকামের উৎপাদন ছিল ৪৭৫ টন, যেখানে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ছিল ৩২৪ টন এবং ২০২১-২২ অর্থবছরে ১৫১ টন। চার বছরে উৎপাদন প্রায় তিন গুণ বেড়েছে। একই সময় চাষের এলাকা ১১১ একর থেকে ১১৯ একরে উন্নীত হয়েছে। প্রতি একরের উৎপাদনও ২,৯২২ কেজি থেকে বেড়ে ৪,০০৬ কেজি হয়েছে।
বাজারে রঙ ও স্বাদের ভিত্তিতে ক্যাপসিকামের দামও ভিন্ন। সুধীর চন্দ্র দে জানিয়েছেন, সবুজ ক্যাপসিকামের দাম প্রতি কেজি ২২০ টাকা, আর লাল বা হলুদ রঙের ক্যাপসিকামের দাম ৪০০ টাকা।
দেশে ক্যাপসিকামের সর্বোচ্চ উৎপাদন হচ্ছে ভোলায়। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে মোট উৎপাদিত ৩২৪ টনের মধ্যে ভোলায় উৎপাদিত হয়েছে ২৬২ টন। অন্যান্য প্রধান উৎপাদন কেন্দ্রের পরিমাণ নিচের টেবিলে দেখানো হলো:
| জেলা | উৎপাদন (টন) |
|---|---|
| ভোলা | ২৬২ |
| সিলেট | ১৫ |
| নওগাঁ | ১১ |
| চুয়াডাঙ্গা | ১০ |
| কুড়িগ্রাম | ১০ |
| কুষ্টিয়া | ৭ |
| বগুড়া | ৬ |
| জয়পুরহাট | ৫ |
কৃষি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারির মধ্যে ক্যাপসিকাম চাষ করলে প্রতি হেক্টরে ৭–১০ বার ফলন পাওয়া সম্ভব। এ কারণে কৃষকরা ক্ষতি ছাড়া ভালো মুনাফা পাচ্ছেন। ভোলা সদর উপজেলার চাষি মো. শাহজাহান এক হেক্টর জমিতে চাষ করে ১৫ লাখ টাকার বিক্রির আশা করছেন।
ক্যাপসিকামের উৎস দক্ষিণ আমেরিকা, বিশেষত মেক্সিকো ও পেরু। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট ইতোমধ্যেই স্থানীয় পরিবেশ উপযোগী তিনটি জাত উদ্ভাবন করেছে। পুষ্টিগুণের দিক থেকে ক্যাপসিকামে ভিটামিন ‘সি’, ভিটামিন ‘এ’, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং খনিজ উপাদান প্রচুর।
সরকারও আমদানিনির্ভরতা কমাতে ২০২২ সালে ১২০ কোটি টাকার ‘মসলার উন্নত জাত ও প্রযুক্তি সম্প্রসারণ’ প্রকল্প গ্রহণ করেছে। এর মাধ্যমে ১১০টি উপজেলায় ১৪ ধরনের মসলার উৎপাদন বৃদ্ধির কাজ চলছে।
ক্যাপসিকামের স্থানীয় উৎপাদন বৃদ্ধি শুধুমাত্র কৃষকের আয় বাড়াচ্ছে না, বরং দেশীয় চাহিদা মেটিয়ে বিদেশি আমদানি নির্ভরতা কমাচ্ছে।
