ভোলায় সিএনজি-পিকআপ সংঘর্ষে চালকের মৃত্যু, আহত ৫

ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) বিকেলে ভোলা–চরফ্যাশন মহাসড়কের লেবুকাটা এলাকায় একটি সিএনজি ও পিকআপ ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। এতে সিএনজি চালক সালাউদ্দিন মিয়া (৪১) নিহত হন এবং আরও পাঁচ যাত্রী গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে ভোলা সদর হাসপাতালে পৌঁছে দেন, যেখানে চিকিৎসক সালাউদ্দিনকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত ও আহতদের বিস্তারিত

নিহত সালাউদ্দিন মিয়া ভোলা সদর উপজেলার উত্তর দিঘলদী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তিনি চার সন্তানের জনক এবং পেশায় সিএনজি চালক ছিলেন। আহতদের মধ্যে পাঁচজনের অবস্থা গুরুতর, তারা বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

নামবয়সপেশা/পরিচিতিআহত/মৃত্যুঅবস্থান
সালাউদ্দিন মিয়া৪১সিএনজি চালকমৃত্যুভোলা সদর হাসপাতাল
অজানা যাত্রী ১গুরুতর আহতভোলা সদর হাসপাতাল
অজানা যাত্রী ২গুরুতর আহতভোলা সদর হাসপাতাল
অজানা যাত্রী ৩গুরুতর আহতভোলা সদর হাসপাতাল
অজানা যাত্রী ৪গুরুতর আহতভোলা সদর হাসপাতাল
অজানা যাত্রী ৫গুরুতর আহতভোলা সদর হাসপাতাল

দুর্ঘটনার বিবরণ

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চরফ্যাশন থেকে পাঁচ যাত্রী নিয়ে একটি সিএনজি ভোলার দিকে যাচ্ছিল। লেবুকাটা এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি পিকআপ ভ্যানের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের জোরে সিএনজি চালকসহ ছয়জন গুরুতর আহত হন।

স্থানীয়রা আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে ভোলা সদর হাসপাতালে পৌঁছে দেন। কর্তব্যরত চিকিৎসক সালাউদ্দিন মিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন। আহতদের মধ্যে পাঁচজনের অবস্থা গুরুতর, তারা বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

পরিবারের শোক ও স্থানীয় প্রতিক্রিয়া

নিহতের পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একমাত্র ছেলে হারিয়ে সালাউদ্দিনের মা বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। স্বজনরা আহাজারি করছেন এবং পুরো এলাকা ভারী মনোভাবাপন্ন হয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা বলেন, “ঈদের আগমুহূর্তে এমন মর্মান্তিক ঘটনা সত্যিই হৃদয়বিদারক।”

পুলিশি ব্যবস্থা ও অনুসন্ধান

বোরহানউদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানিয়েছেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। তবে দুর্ঘটনার পর পিকআপ চালক পালিয়ে গেছে। পুলিশ তাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চালাচ্ছে এবং ঘটনার আইনগত প্রক্রিয়া প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ওসি আরও বলেন, “দূর্ঘটনার কারণ নির্ণয় ও দোষীকে আইন অনুযায়ী শাস্তি প্রদানের জন্য তদন্ত চলছে। এলাকাবাসীকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।”

ঈদ উৎসবের আগে এই দুর্ঘটনা শুধু নিহতের পরিবার নয়, পুরো স্থানীয় সম্প্রদায়ের জন্য শোকের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন ও ট্রাফিক বিভাগকে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।