দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে জান্নাত কনফার্ম, আশ্বাস দিলেন জামায়াত প্রার্থীর

লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কামলনগর) আসনের জামায়াত-এ-ইসলামী প্রার্থী এ আর হাফিজ উল্লাহ সম্প্রতি একটি বিতর্কিত বক্তব্য দিয়ে রাজনৈতিক মহলে উত্তেজনা সৃষ্ট করেছেন। নির্বাচনী প্রচারণার সময় হাতে মাইক্রোফোন নিয়ে তিনি ভোটারদের উদ্দেশ্যে বলেন, “যদি আপনি ইসলামের পক্ষে ভোট দিন এবং পবিত্র কুরআনকে মানুন, তাহলে জান্নাত আপনার নিশ্চয়তা। কুরআনের বিরুদ্ধে ভোট দেয়া পাপের মধ্যে পড়বে।”

এই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। একই সময়ে, হাফিজ উল্লাহ সরকারের বিভিন্ন কল্যাণমূলক প্রকল্পের কার্যকারিতা নিয়েও সমালোচনা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, বিধবা ভাতা, প্রবীণ ভাতা, শিশু ভাতা, মাতৃত্বকালীন সহায়তা এবং প্রতিবন্ধী ভাতা প্রাপ্যদের কাছে পৌঁছাচ্ছে না। প্রার্থী বলেন, “একটি গ্রুপ দুর্নীতিতে লিপ্ত, অন্যটির নীতিভ্রষ্ট ইতিহাস রয়েছে। আমরা আপনার সন্তান ও ভাই হিসেবে নিশ্চিত করছি যে আমাদের প্রশাসনের অধীনে কোনো দুর্নীতি হবে না।”

প্রার্থীর এই মন্তব্য নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই অভিযোগ করেছেন যে, ধর্মীয় অনুভূতি কাজে লাগিয়ে ভোট প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। বিতর্ক প্রসঙ্গে হাফিজ উল্লাহ বলেন, “আমি এমন বক্তব্য দেওয়ার কথা মনে করতে পারছি না। সম্ভবত এটি অনিচ্ছাকৃতভাবে বলা হয়েছে। এছাড়াও, কখনও কখনও আমার কথা প্রাসঙ্গিকতার বাইরে তুলে ধরা হয়।”

রামগতি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা নিলুফা ইয়াসমিন নিশ্চিত করেছেন যে বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তিনি বলেন, “যদি আনুষ্ঠানিক লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়, তবে তা রিটার্নিং অফিসারের কাছে প্রেরণ করা হবে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।”

প্রধান বিবরণ নিচের টেবিলে উপস্থাপন করা হলো:

বিষয়তথ্য
প্রার্থীএ আর হাফিজ উল্লাহ
আসনলক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কামলনগর)
রাজনৈতিক দলজামায়াত-এ-ইসলামী
বিতর্কিত মন্তব্যধর্মীয় আনুগত্য অনুযায়ী জান্নাতের নিশ্চয়তা দেওয়া
বক্তৃতার তারিখ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (রবিবার)
স্থানরামগতি উপজেলা, লক্ষ্মীপুর
ভিডিও প্রচারসামাজিক যোগাযোগমাধ্যম
প্রশাসনিক প্রতিক্রিয়াতদন্তাধীন; লিখিত অভিযোগ রিটার্নিং অফিসারে প্রেরণ হবে

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে ধর্মীয় অনুভূতি কাজে লাগিয়ে ভোট প্রভাবিত করা সংবিধান ও নির্বাচনী আচরণবিধির পরিপন্থী। তারা উল্লেখ করেছেন, ভোটারদের সঠিক তথ্য পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে এবং তাদের ধর্মীয় বা ব্যক্তিগত চাপ ছাড়া স্বাধীনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ থাকতে হবে।

ঘটনাটি স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপক মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। নাগরিক ও নির্বাচন পর্যবেক্ষকরা প্রশাসনিক পদক্ষেপ ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন, যাতে আসন্ন নির্বাচন স্বচ্ছ, ন্যায়সঙ্গত এবং যথাযথ নির্বাচনী নৈতিকতার সঙ্গে সম্পন্ন হয়।