ভোটের আগেই ভোটকেন্দ্রের সিসি ক্যামেরা চুরি

আনোয়ারা উপজেলার বৈরাগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে নিরাপত্তা বিষয়ক বড় ধরণের উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা ভোটকেন্দ্রে স্থাপিত সিসি ক্যামেরা চুরি করে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকালে কেন্দ্রে গিয়ে প্রথমে বিষয়টি লক্ষ্য করেন এবং পরে খোঁজ নিয়ে নিশ্চিত হন যে রাতের কোনো একসময় পরিকল্পিতভাবে ক্যামেরাগুলো সরিয়ে ফেলা হয়েছে।

এ ঘটনায় স্থানীয়রা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, ভোটের দিন কেন্দ্রের পরিস্থিতি বিশৃঙ্খল বা নাশকতার হাত থেকে সুরক্ষিত রাখতে ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারি করা হতো। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা চুরি করা হয় ভোটের দিন অশান্তি বা আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার সম্ভাব্য প্রস্তুতির অংশ হিসেবে। তারা দ্রুত তদন্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।

আনোয়ারা থানার ওসি মো. জুনায়েত চৌধুরী জানান, ‘ঘটনার খবর পাওয়া সঙ্গে সঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে এবং পুলিশ ফোর্স ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। জড়িতদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তিনি আরও বলেন, অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন এবং নতুন সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে যাতে ভোটকেন্দ্রে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।

নির্বাহী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কেন্দ্রের নিরাপত্তা যাচাই এবং নতুন ক্যামেরা স্থাপন কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা হবে। স্থানীয়রা আশা প্রকাশ করেছেন যে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা দ্রুত অভিযান চালিয়ে দোষীদের গ্রেপ্তার করবে এবং ভোটকেন্দ্রে এমন ঘটনা পুনরায় ঘটতে দেবে না।

নিচের টেবিলটিতে ঘটনার মূল তথ্য সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:

বিষয়বিবরণ
ঘটনা স্থানবৈরাগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আনোয়ারা
ঘটনা তারিখ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
খোঁজ পাওয়া তারিখ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ঘটনার ধরনসিসি ক্যামেরা চুরি
আইন-শৃঙ্খলা কর্তৃপক্ষআনোয়ারা থানা
নিরাপত্তা ব্যবস্থাঅতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন, নতুন সিসি ক্যামেরা স্থাপন
স্থানীয়দের দাবিদ্রুত তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি

উপজেলার রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্বাচনের আগে এমন নিরাপত্তা চুরি কেন্দ্রগুলিতে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করতে পারে। নির্বাচনী কমিটি ইতিমধ্যেই স্থানীয় কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছে যে, প্রতিটি কেন্দ্রের নিরাপত্তা পুনঃমূল্যায়ন করতে হবে এবং ভোটের দিন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সব ধরনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

এ ঘটনায় নির্বাচনী প্রস্তুতি ও কেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা তদারকি আরও জোরদার করার প্রয়োজনীয়তা স্পষ্টভাবে浮রে এসেছে, যা ভোটের দিন শান্তিপূর্ণ ও স্বচ্ছ পরিবেশ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।