ভেনেজুয়েলার পর ট্রাম্পের নতুন নিশানা: কলম্বিয়া

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপের মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এবার কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোও মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এবং সম্ভাব্য সামরিক হস্তক্ষেপের চাপের মুখে পড়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রোববার (৫ জানুয়ারি) গভীর রাতে এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে কলম্বিয়ায় সম্ভাব্য সামরিক অভিযান পরিচালনার ইঙ্গিত দিয়েছেন।

ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন, বামপন্থি নেতা গুস্তাভো পেত্রোর শাসনে কলম্বিয়া চরম অস্থিতিশীলতার মধ্যে রয়েছে। তিনি পেত্রোকে ‘অসুস্থ ব্যক্তি’ হিসেবে অভিহিত করে দাবি করেছেন যে, কলম্বিয়া বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে কোকেন উৎপাদন ও সরবরাহের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। মার্কিন প্রেসিডেন্ট স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, এই পরিস্থিতি দীর্ঘ সময় ধরে চলতে দেওয়া যায় না।

সাংবাদিকদের সরাসরি প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, “কলম্বিয়ায় সামরিক অভিযান একটি ইতিবাচক এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ হতে পারে।” এছাড়া তিনি কিউবার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও মন্তব্য করেছেন। ট্রাম্পের মতে, কিউবার সরকার তীব্র অর্থনৈতিক সংকটে জর্জরিত, এবং ভেনেজুয়েলার তেলের সহায়তা বন্ধ হওয়ায় দেশটি কার্যত দেউলিয়া হয়ে যাচ্ছে। তিনি বিশ্বাস করেন, কিউবার অভ্যন্তরীণ কাঠামো যে কোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে, যা কিউবান-আমেরিকানদের জন্য আনন্দের বিষয় হতে পারে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই কড়া হুঁশিয়ারি কলম্বিয়া ও কিউবার ওপর তার প্রশাসনের শক্ত অবস্থান প্রতিফলিত করে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এও উল্লেখ করেছেন, মার্কিন এই পদক্ষেপ লাতিন আমেরিকার স্থিতিশীলতার ওপর দীর্ঘমেয়াদে গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে।

নিচের টেবিলে মার্কিন প্রশাসনের লক্ষ্যবস্তু হিসেবে উল্লেখিত দেশগুলোর বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরা হলো:

দেশনেতারাজনৈতিক অবস্থাঅর্থনৈতিক অবস্থামার্কিন অবস্থান
ভেনেজুয়েলানিকোলাস মাদুরোরাজনৈতিক অস্থিতিশীলতেল নির্ভর সংকটপ্রেসিডেন্ট আটক, নিষেধাজ্ঞা
কলম্বিয়াগুস্তাভো পেত্রোবামপন্থি শাসন, অস্থিতিশীলতাকোকেন উৎপাদন কেন্দ্রসম্ভাব্য সামরিক হস্তক্ষেপ
কিউবামিগেল ডিয়াজ-ক্যানেলতীব্র অর্থনৈতিক সংকটদেউলিয়া হওয়া পথেঅর্থনৈতিক চাপ, সামরিক হস্তক্ষেপ সম্ভব নয়

বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন, মার্কিন হস্তক্ষেপ কেবল রাজনৈতিক প্রভাবেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং এটি আন্তর্জাতিক কোকেন ব্যবসা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং লাতিন আমেরিকার নিরাপত্তা পরিস্থিতিতেও সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। ট্রাম্পের এই ঘোষণা সাম্প্রতিক লাতিন আমেরিকার রাজনৈতিক মানচিত্রকে পুনর্গঠন করতে পারে বলে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন।