ভূরুঙ্গামারীতে অবৈধ চালের গুদামে পুলিশি অভিযান

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় মধ্যরাতে স্থানীয় তিন ব্যবসায়ীর গুদামে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৮শ বস্তা সরকারি চাল জব্দ করেছে পুলিশ। অভিযান পরিচালিত হয় বলদিয়া ইউনিয়নের কাশিম বাজার এলাকায়, যেখানে সরকারি ও স্থানীয় বস্তায় মজুদকৃত চাল অবৈধভাবে রাখার অভিযোগ পাওয়া যায়। অভিযান শেষে এসব চাল পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং তদন্ত শুরু করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জব্দকৃত চালের মধ্যে খাদ্য অধিদপ্তরের সিলমোহর যুক্ত ৩০ কেজি বস্তা ও কিছু স্থানীয় বস্তাও রয়েছে। তাৎক্ষণিক হিসাব অনুযায়ী, ৮শ বস্তা চালের মোট ওজন প্রায় ২০ মেট্রিকটন। অভিযুক্ত ব্যবসায়ীরা পুলিশ আসার আগে পালিয়ে যায়।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, এই চালগুলো মূলত ভিজিএফ (ভোজন নিরাপত্তা) বরাদ্দকৃত, যা গোপনে পাইকারদের কাছে বিক্রি করা হচ্ছিল। স্থানীয় বাসিন্দা আলতাফ হোসেন বলেন, “চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা পাইকারদের কাছে চাল বিক্রি করেছে। পাইকাররা জনসম্মুখে বিতরণের সময় গুদাম থেকে চাল তুলে নিয়ে নিজেদের গুদামে রেখেছে। প্রকৃত গরীব মানুষ এখনও চাল পায়নি।”

অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বলদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক, তিনি বলেন, “আমাদের ইউনিয়নে ৬৪ টন ৫৩০ কেজি ভিজিএফ চাল সম্পূর্ণভাবে বিতরণ শেষ হয়েছে। এই চাল কোথা থেকে এসেছে তা আমার জানা নেই। খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল সরাসরি ডিলারদের মাধ্যমে বিতরণ করা হয়; ইউনিয়ন পরিষদ বা চেয়ারম্যানের মাধ্যমে নয়।”

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ভূরুঙ্গামারী সার্কেল) মুনতাসির মামুন মুন জানিয়েছেন, “আটক করা চালগুলো সরকারি। কয়েকটি গুদামে আনুমানিক ৮শটি সরকারি ও স্থানীয় বস্তা অবৈধভাবে মজুদ করা হয়েছিল। পুলিশি হেফাজতে এগুলো রাখা হয়েছে।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহাদাৎ হোসেন জানিয়েছেন, “চালগুলো পুলিশি হেফাজতে আছে। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

নিচের টেবিলে অভিযানের মূল তথ্য সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:

বিষয়তথ্য
অভিযান স্থানবলদিয়া ইউনিয়ন, কাশিম বাজার, ভূরুঙ্গামারী
অভিযুক্ত ব্যবসায়ীছমের আলী, রবিউল ইসলাম, সোনাউল্ল্যা মিয়া
জব্দকৃত চালের পরিমাণপ্রায় ৮শ বস্তা (২০ মেট্রিকটন)
চালের ধরনসরকারি ৩০ কেজি বস্তা সহ স্থানীয় বস্তা
অবৈধ ব্যবহারের অভিযোগপাইকারদের কাছে গোপনে বিক্রয়
পুলিশি পদক্ষেপচাল হেফাজতে, তদন্ত শুরু
স্থানীয় প্রতিক্রিয়াচাষী ও সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ ও উদ্বিগ্ন
প্রশাসনিক মন্তব্যচেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন পরিষদ বিতরণ অস্বীকার; পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়েছে

এই অভিযান স্থানীয় প্রশাসন এবং আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সতর্কতা ও তৎপরতার দৃষ্টান্ত হিসেবে ধরা হচ্ছে। অবৈধভাবে সরকারি খাদ্যসামগ্রী মজুদ ও বিক্রির অভিযোগ প্রমাণিত হলে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই ঘটনা স্থানীয় জনগণের মধ্যে সরকারি সম্পদের যথাযথ ব্যবহার এবং স্বচ্ছতার গুরুত্ব পুনরায় স্মরণ করিয়ে দিয়েছে।