সাম্প্রতিক ভূমিকম্পে আবাসিক হলসমূহে ক্ষয়ক্ষতির ঘটনার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ একটি সতর্ক ও বিশ্লেষণভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। বুধবার (৩ ডিসেম্বর) ডিনস কমিটির সভায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খানের সভাপতিত্বে গুরুত্বপূর্ণ একাডেমিক সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আগামী ২৮ ডিসেম্বর সব আবাসিক হল খুলে দেওয়া হবে এবং একই দিন থেকে নিয়মিত একাডেমিক ক্লাস শুরু হবে।
Table of Contents
হলগুলোর নিরাপত্তা যাচাই: বিশেষজ্ঞ দলের বিস্তৃত মূল্যায়ন
সভায় জানানো হয়, ভূমিকম্পের পরপরই বুয়েটের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি সাব-কমিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি হলে সরেজমিন কারিগরি মূল্যায়ন করে। এ কমিটির প্রতিবেদনে দেখা যায়, অধিকাংশ হলে বড় ধরনের কাঠামোগত ক্ষতি না হলেও উল্লেখযোগ্য কিছু অংশে তাৎক্ষণিক মেরামত প্রয়োজন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দপ্তরও এ বিষয়ে সুপারিশ দিয়েছে, যা পর্যালোচনা করেই হল খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে, হলগুলো খুললেও কিছু কিছু জায়গায় মেরামতের কাজ চলবে, তবে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে না। প্রয়োজনে বিকল্প ব্যবস্থাও থাকবে।
শীতকালীন ছুটিতে পরিবর্তন: দুই দিন অতিরিক্ত
ডিনস কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত হয়, পূর্বনির্ধারিত শীতকালীন ছুটি বহাল থাকবে। তবে অতিরিক্তভাবে ২৩ ও ২৪ ডিসেম্বর ছুটি হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে। মূলত এই সময়ে শারীরিক ঠিকঠাক করার কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়াই এ সিদ্ধান্তের লক্ষ্য।
অনলাইন ক্লাস ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত—শিক্ষার্থীদের চাপ কমাতে উদ্যোগ
শীতকালীন ছুটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো পরীক্ষা নেওয়া হবে না বলে জানানো হয়েছে। তবে শিক্ষাগত ক্ষতি পুষিয়ে নিতে চলমান অনলাইন ক্লাস ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত চালু থাকবে। এই ব্যবস্থা শিক্ষার্থীদের জন্য সুবিধাজনক, কারণ দীর্ঘ ছুটি ও হল বন্ধের পরিস্থিতিতে শিক্ষাজনিত পিছিয়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকবে না।
জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে আবার শুরু পরীক্ষা
সভায় জানানো হয়, জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা শুরু হবে। বিভাগীয় প্রধানেরা ডিনের সঙ্গে আলোচনা করে পুনঃনির্ধারিত সময়সূচি প্রকাশ করবেন। এতে শিক্ষার্থীরা আগেভাগে প্রস্তুতি নিতে পারবেন এবং একাডেমিক ক্যালেন্ডারও উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।
সমগ্র পরিস্থিতির সার্বিক বিশ্লেষণ
এই সিদ্ধান্তগুলো বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের একটি সুসমন্বিত পরিকল্পনার প্রতিফলন। একদিকে আবাসিক হলগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা—অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা—উভয় দিককেই সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ভূমিকম্পে সৃষ্ট উদ্বেগ কাটিয়ে ওঠার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্রুত পদক্ষেপ ও বিশেষজ্ঞদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় একাডেমিক ক্যালেন্ডারে পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকি এড়াতে সময়োচিত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলা যায়। সবকিছু ঠিক থাকলে ২৮ ডিসেম্বর থেকে ঢাবি আবারও স্বাভাবিক ছাত্রজীবনে ফিরতে প্রস্তুত।
