ভূমিকম্পে বন্ধ একাধিক বিদ্যুৎকেন্দ্র: পিডিবির জরুরি পদক্ষেপ

ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সাম্প্রতিক ভূমিকম্পের প্রভাবে দেশের বিদ্যুৎ খাতের অবস্থা যথেষ্ট উদ্বেগজনক। ভূমিকম্পের তীব্রতার কারণে বেশ কিছু বিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে এবং বহু অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকা ও আশেপাশের জেলা সহ দেশের পূর্ব ও উত্তরাঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যাপক বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার জন্য কাজ করছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমানে বিভিন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন স্বাভাবিক না হওয়ায় লোডশেডিং এবং বিদ্যুৎ বিভ্রাট অব্যাহত রয়েছে।

পিডিবি অনুযায়ী, ভূমিকম্পের সময় নিম্নলিখিত কেন্দ্রগুলোতে উৎপাদন সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়:

বিদ্যুৎকেন্দ্রের নামক্ষমতা (মেগাওয়াট)বর্তমান অবস্থা
বিবিয়ানা-২ (সামিট)৩৪১সম্পূর্ণ বন্ধ
আশুগঞ্জ৫৫সম্পূর্ণ বন্ধ
এসএস পাওয়ার ইউনিট৬০০চালু থাকা সত্ত্বেও সরবরাহ বন্ধ

এছাড়া কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে আংশিকভাবে উৎপাদন চালু রাখা হয়েছে। এগুলো হলো:

বিদ্যুৎকেন্দ্রের নামক্ষমতা (মেগাওয়াট)বর্তমান উৎপাদন
বিবিয়ানা-৩২২৫আংশিক
আশুগঞ্জ২২৫আংশিক
সিরাজগঞ্জ২২৫আংশিক

পিডিবি কর্মকর্তারা আরও জানান, ঘোড়াশাল এআইএস গ্রিড সাবস্টেশন থেকেও বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে আগুন লাগা, ইনসুলেটর ভেঙে যাওয়া ও অন্যান্য যান্ত্রিক কারণে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। বিশেষ করে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, চট্টগ্রাম এবং কুমিল্লা অঞ্চলে লোডশেডিং এবং অপ্রত্যাশিত বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ঘটনা ঘটেছে।

বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে পিডিবি অতিরিক্ত প্রযুক্তিগত দল নিয়োগ করেছে এবং প্রতিটি কেন্দ্র ও সাবস্টেশনের জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম ত্বরান্বিত করা হয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, “সকল বিদ্যুৎকেন্দ্র সম্পূর্ণরূপে পুনরায় চালু হওয়ার আগে কয়েক দিনের জন্য আংশিক বিভ্রাট ও লোডশেডিং চলতে পারে। আমরা সর্বোচ্চ ত্বরায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছি।”

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় বিদ্যুৎ খাতের কার্যকারিতা রক্ষার জন্য জরুরি নেটওয়ার্ক ও সাবস্টেশনগুলোর স্থায়ী সংস্কার ও আধুনিকায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়াও, দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিতরণ ব্যবস্থাকে আরও প্রতিরক্ষামূলক করার জন্য উন্নত মানের সিসিটিভি মনিটরিং, অটোমেশন এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা প্রয়োজন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পিডিবি প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে, দেশের সব প্রধান শহর এবং শিল্পাঞ্চলে দ্রুততম সময়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনঃস্থাপন করা হবে। সাধারণ জনগণকে কিছুদিনের জন্য বিদ্যুৎ বিভ্রাট সহ্য করতে হবে, তবে সরকারের তৎপর পদক্ষেপের মাধ্যমে দ্রুত স্থিতিশীলতা আসার আশা রয়েছে।